বার্ষিক রিপোর্ট

আকুল আবেদন

আসসলামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

সম্মানিত মুসলিম ভাই ও বোনেরা, আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন যে, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া বর্তমান বিশ্বের অন্যতম এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া তথা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও বহুমুখী ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র। ১৯৩৮ ইং সনে প্রতিষ্ঠা লাভ করে আল-জামিয়া পটিয়া এ পর্যন্ত পবিত্র কুরআন ও হাদীসের আলো বিস্তার, ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুনের প্রচার-প্রসার এবং সমাজ থেকে বিদাত-শিরক ও কুসংস্কার দূরীভূত করার বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণপূর্বক জাতির দিক-নির্দেশনার গুরু দায়িত্ব পালনে সদা নিয়োজিত আছে। আল-জামিয়া পটিয়ায় প্রাথমিক স্তর তথা নূরানী-নাজেরা ও হিফজ থেকে দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স) পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি তাফসীর, হাদীস, ফিকহ-ফতওয়া, তাজবীদ-কিরাত, আরবী-বাংলা-ইংরেজী ভাষা ও সাহিত্য এবং ইসলামী গবেষণার জন্য বিশেষ বিভাগ রয়েছে- যা এ জামিয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এ ছাড়া সরকারী স্কুল-কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসা থেকে আগত ছাত্রদেরকে স্বল্প সময়ে আলেম হিসাবে গড়ে তোলার জন্য রয়েছে ‘শর্টকোর্স’ নামে ৬ বছরের একটি সমন্বিত কোর্স। দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্রদেরকে যুগোপযোগী ও দক্ষ জনশক্তি হিসাবেও গড়ে তোলার জন্য বিভিনড়ব কারিগরী ও হস্তশিল্প এবং কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষাদানের জন্য কারিগরী ও কম্পিউটার বিভাগও খোলা হয়েছে। এসব সাধারণ ও বিশেষ বিভাগ ও কোর্স থেকে প্রতি বছর বহু দক্ষ কর্মী, হাফেজ, মুজাব্বিদ, কারী, আলেম, মুবাল্লিগ, মুফাস্স্সির, মুহাদ্দিস, মুফতি, ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক এবং আরবী ও বাংলা ভাষাবিদ,সাহিত্যিক ও লেখক হয়ে দেশ-জাতি ও বিশ্বমানবতার খেদমতে আত্মনিয়োগ করেন।

বর্তমানে আল-জামিয়া পটিয়ায় শতাধিক যোগ্য শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৫ হাজার ছাত্র লেখা-পড়া করে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নও মুসলিমও রয়েছে। সকল শিক্ষার্থীকে অবৈতনিক শিক্ষাদান, ফ্রি আবাসিক সুবিধা, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে পাঠ্যপুস্তক প্রদান করা হয়। প্রায় ৩৫০০ জন শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া নও মুসলিমসহ অনেক ছাত্রের লেবাস-পোশাক ও চিকিৎসাসহ সকল প্রকার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আল-জামিয়া বহন করে থাকে।

আল-জামিয়ার সদকা ফান্ড থেকে এতিম ও দরিদ্র ছাত্রদের ভারণ-পোষণ ইত্যাদি এবং চাঁদা ফান্ড থেকে শিক্ষক-কর্মচারীগণের বেতন-ভাতা ও নির্মাণ প্রভৃতির ব্যয়ভার বহন করা হয়। উল্লেখ্য যে, আলজামিয়া সাধারণ মুসলিম হিতাকাংখীগণের সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমেই পরিচালিত এবং উনড়বতি-অগ্রগতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

অতএব, মুসলিম ভাই-বোনদের প্রতি একান্ত আবেদন, আলজামিয়ার জন্য দু’আয়ে-খাইর ও সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করবেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ভাল কাজের সহযোগিতা করার তাওফীক দান করুন। আমীন!

আরজ-গুজার

মুফতি আবু তাহের কাসেমী নদভী

মুহতামিম, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া , চট্টগ্রাম।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print