হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া—এর মেধা তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত ছাত্রদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়

গতকাল ২৬ জিলহজ ১৪৪৬ হিজরি, মোতাবেক ২৩ জুন সোমবার, বাদ জুহর, আল—জামিয়া আল—ইসলামিয়া পটিয়ার জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হলো হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া—এর মেধা তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত ছাত্রদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জামিয়ার মুহাদ্দিস ও সহকারী শিক্ষা পরিচালক মাওলানা জাকারিয়া আল—আজহারী সাহেব। তিনি সূচনা বক্তব্যে হাদীস শরীফের আলোকে শরয়ী ভিত্তিতে পুরস্কার প্রদানের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বলেন, “রাসূলুল্লাহ ﷺ জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার জন্য পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। সুতরাং শরিয়তের দৃষ্টিতে প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার প্রদান বৈধ এবং উৎসাহমূলক।”
জামিয়ার মুহতামিম মুফতি আবু তাহের কাসেমী নদভী হাফিজাহুল্লাহ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামিয়ার শায়খুল হাদিস হযরত মাওলানা মুফতি হাফেজ আহমদ উল্লাহ সাহেব বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামিয়ার শায়খে সানি হযরত মাওলানা মুফতি শামছুদ্দিন জিয়া সাহেব দা.বা.।
মেধা তালিকায় স্থান প্রাপ্ত ছাত্র এবং যে সমস্ত জিম্মাদার উস্তাদদের মেহনতের বদৌলতে ছাত্ররা ভালো রেজাল্ট করেছেন জামিয়ার পক্ষ থেকে তাদের হাতে সম্মিলিতভাবে পুরষ্কার তুলে দেন শায়খুল হাদিস হযরত মাওলানা মুফতি হাফেজ আহমদ উল্লাহ সাহেব, শায়খে সানি হযরত মাওলানা মুফতি শামছুদ্দিন জিয়া সাহেব দা.বা. এবং জামিয়ার স্বনামধন্য মুহতামিম মুফতি আবু তাহের কাসেমী নদভী সাহেব দা.বা.
হাইয়াতুল উলয়ার মেধা তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত পুরষ্কৃত ছাত্রবন্দের নাম
১. মোঃ আবু সালেহ — ৩য় স্থান
২. মোঃ সাখাওয়াত হোসেন — ৩য় স্থান
৩. মোঃ আজিজুল হক — ৫ম স্থান
৪. মোঃ আব্দুল মালেক — ১৮তম স্থান
৫. আব্দুল্লাহ ফারহান — ২৭তম স্থান
৬. মোঃ হেদায়েত উল্লাহ — ২৭তম স্থান
৭. মোঃ ওমর ফারুক — ৩০তম স্থান
৮. শাহেদুল ইসলাম — ৩৪তম স্থান
৯. মোঃ ওসামা—

হাইয়াতুল উলয়ার এর মারকাজী পরীক্ষায় দাওরায়ে হাদিসের দু‘জনা ছাত্র ৩য় স্থান, একজন ৫ম স্থান, ১৮তম স্থানসহ সর্বমোট নয়জন ছাত্র মেধা তালিকা স্থান পাওয়ায় জামিয়ার সিনিয়র শিক্ষক ও দাওরায়ে হাদিসের জিম্মাদার মাওলানা জাফর সাদেক সাহেব ও জামিয়ার সিনিয়র শিক্ষক, ইফতা বিভাগের মুশরিফ মুফতি মঞ্জুর সিদ্দিক সাহেবকে বিশেষ পুরষ্কারে ভুষিত করা হয়। এছাড়াও আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস এর মারকাজী পরীক্ষায় জাামাতে চারারুমের ছাত্ররা ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধীকার করা ছাড়াও সবোর্চ্চ ছাত্র মেধা তালিকায় আসার কারণে জামাতে চাহারুমের জিম্মাদার: মাওলানা নাসির উদ্দিন সাহেব এবং পটিয়া—চন্দনাইশ আঞ্চলিক ইত্তেহাদে নাহুম জামতে নাহুমের ছাত্ররা যথাক্রমে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধীকার করা ছাড়াও মেধা তালিকায় সেরা হওয়ায় জামাতে নাহুমের — জিম্মাদার: মাওলানা ইব্রাহিম সাহেবকেও বিশেষ পুরষ্কার প্রদান করা হয়।

পুরষ্কার প্রদানের পর সমবেত ছাত্রদের উদ্দেশ্যে জামিয়ার সম্মানিত শায়খে সানি মুফতি শামছুদ্দীন জিয়া সাহেব (দা.বা.) এক অনুপ্রেরণাদায়ক নসিহত পেশ করেন, যেখানে তিনি বলেন: আলহামদুলিল্লাহ — পটিয়া মাদ্রাসার উন্নয়ন, কৃতজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের লক্ষ্য নিয়ে হৃদয়গ্রাহী বক্তব্য
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তাআলার অশেষ কৃপায় আজ এমন এক সময় এসেছে—যখন পটিয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা হাইয়াতুল উলিয়ার মেধা তালিকায় উল্লেখযোগ্যভাবে স্থান অর্জন করছে। অথচ একটা সময় ছিল, যখন কেউ কেউ বলত: “পটিয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা তো তালিকায় আসে না, আসলেও সেটা নামমাত্র।”
কিন্তু আজ? আলহামদুলিল্লাহ, পটিয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা এখন শুধু তালিকায় আছে এমন নয়—বরং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক জামাতে সংখ্যাগতভাবে এগিয়ে। এই কৃতিত্ব ছাত্রদের পাশাপাশি আমাদের পরিশ্রমী আসাতিযায়ে কেরামেরও, যাঁরা নিরলস মেহনত করে মাদ্রাসার সুনামকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। আমরা তাদের জন্য আল্লাহর দরবারে অধিক কামিয়াবি ও ভবিষ্যতের সফলতা কামনা করি।
এক সময় বলা হতো—চিলোনিয়ার ছাত্ররাই সব সময় তালিকায় এক নম্বরে, কিংবা চন্দ্রঘোনা ইনুসিয়া, অথবা শোলকবহরের ছাত্ররাই তালিকায় প্রাধান্য পায়। আজ, আলহামদুলিল্লাহ, পটিয়াও তাদের তুলনায় পিছিয়ে নেই, বরং অনেক জামাতে তাদের চেয়েও বেশি ছাত্র মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে।
“لَئِن شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِن كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ”
“তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও দেব। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।” (সূরা ইবরাহীম: ৭)
পুরস্কারের প্রসঙ্গে একটি দৃষ্টান্ত উল্লেখযোগ্য—তাজমহল তৈরি হয়ে গেলে বাদশাহ তাজমহলের মূল মিস্ত্রিকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেন। বাদশা পুরষ্কার দিবে এটা শোনে হাজারও লোকজন ভীড় জমায়। কিন্তু দেখে পুরষ্কার হিসেবে শুধু একটি লং (উপমারূপ) একটি প্লেটের নিচে রাখা, তখন অনেকে অবাক হয়। পুরষ্কার পাওয়ার পর মিস্ত্র প্রতিক্রিয়া কি জানতে চাইলে সেই বলে ওঠেন, “আমাকে কী পুরস্কার দেয়া হয়েছে, সেটি বড় কথা নয়; বরং আমাকে কে পুরস্কার দিয়েছেন, সেটাই বড় কথা।”
এখানেও তোমাদের কী দেয়া হয়েছে, সেটা মুখ্য বিষয় নয়—মূল বিষয় হলো, তোমাদের পুরস্কার দিয়েছেন জামিয়ার শায়খুল হাদীস এবং মুহতামিম সাহেব। এই দুই ব্যক্তিত্বের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করাই তোমাদের জন্য সর্বোচ্চ সম্মানের বিষয়।
আসাতিযায়ে কিরাম যাঁরা আজ পুরস্কার পেয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে বলা যায়— “مَا عِندَكُمْ يَنفَدُ وَمَا عِندَ اللَّهِ بَاقٍ”
“তোমাদের কাছে যা আছে, তা নিঃশেষ হবে; কিন্তু আল্লাহর কাছে যা আছে, তা চিরস্থায়ী।” (সূরা নাহল: ৯৬)
আসাতিযায়ে কেরাম নিজের জন্য কিছু আশা করে মেহনত করেননি, ভবিষ্যতেও করবেন না ইনশাআল্লাহ। যাঁরা পটিয়ার মান ধরে রেখেছেন, তাঁদের জন্য প্রকৃত জাযা কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ তাআলাই দেবেন।
“مَنْ سَنَّ سُنَّةً حَسَنَةً فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا”
“যে ব্যক্তি একটি ভালো পদ্ধতি চালু করল, তার জন্য আছে তার প্রতিদান এবং যারা তা অনুসরণ করবে, তাদের সবার প্রতিদানও।” (সহীহ মুসলিম)
আজ আমরা যে এই স্থানে এসেছি—এটি আমাদের মুরব্বীদের তাওজ্জুহ ও তাকরিমের ফল। আমাদের সমসাময়িক অনেকেই হয়তো আমরা চাইতেও বেশি যোগ্য ছিলেন; কিন্তু মুরব্বীদের নজর আমাদের ওপর পড়েছে। আমাদের পিছনে ছিল কিছু আসাতিযা কেরামের নিঃস্বার্থ মেহনত। তাঁরা একাগ্রতার সাথে আমাদের পিছনে পড়িয়েছেন—আমরাও যেন ভবিষ্যতে এভাবে মেহনত করে আরও আল্লাহওয়ালা বান্দা তৈরি করতে পারি, এই হোক আমাদের আসল কৃতজ্ঞতা।
“وَفِي ذَٰلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ”
“এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ই যেন প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করে।” (সূরা আল—মুতাফফিফীন: ২৬)
একটা প্রচলিত কথা আছে—”যেই দেশে করিও, ভাগ দেয়।” অনেক ছোট মাদ্রাসায় এক নম্বরে আসা সহজ, কারণ সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী কম থাকে। কিন্তু বড় মাদ্রাসায়, কঠিন প্রতিযোগিতার ভেতর থেকে এক নম্বর হওয়া—সেটাই আসল।
তাই যাঁরা পুরস্কার পেয়েছেন, তারা যেন সামনে আরও ভালো করার জন্য প্রস্তুতি নেয়। আর যারা পায়নি, তারা যেন সামনের সময়ে পাওয়ার জন্য জোর চেষ্টা করে। আমি অনেক ছাত্রের উদাহরণ জানি—ছোট মাদ্রাসা থেকে এসে শুরুতে পরীক্ষায় ১০ নম্বর পেত, ছয় মাস পর হয়েছে ৭ নম্বর, তারপর তিন নম্বর, পরবর্তীতে এক নম্বর। এটি হয়েছে একমাত্র মেহনত, তানাফুস এবং প্রতিযোগিতার কারণে।
ঘড় শহড়ষিবফমব রিঃযড়ঁঃ পড়ষষবমব.
শিক্ষার জন্য প্রতিযোগিতা অপরিহায্য। কেউ যদি ঘরে বসে পড়ে, শুধু মাস্টার রাখে কিন্তু প্রতিযোগিতা না থাকে—তবে সে আগ্রহ হারাবে। প্রতিযোগিতাহীন পরিবেশ শিক্ষায় পিছিয়ে দেয়। তাই মোসাবাকাহ, মুসারাহা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মানসিকতা গড়ে তুলো। আল্লাহ তাআলা তৌফিক দেবেন।
সবশেষে বলব—এই দুনিয়ার পুরস্কার বড় নয়, আখিরাতের পুরস্কারই আসল। পড়াশোনাও করো, পড়াওও সেই পুরস্কারের লক্ষ্যেই। পুরস্কার দিয়ে অনুপ্রাণিত করাই উদ্দেশ্য—মূল লক্ষ্য যেন আল্লাহর সন্তুষ্টি হয়। তাই নজর রাখো, “কার হাত থেকে পুরস্কার নিচ্ছ?”—এই প্রশ্নটাই হোক হৃদয়ের কথা।
জামিয়ার সুযোগ্য মুহতামিম হযরত মুফতি আবু তাহের কাসেমী নববী (দা.বা.) এর কৃতজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের অঙ্গীকার
আলহামদুলিল্লাহ, আজ আমাদের দুই পাশে দুইজন বরেণ্য মুরব্বী উপস্থিত রয়েছেন, এবং আমরা এক অনুপম পরিবেশে একত্রিত হয়েছি। সর্বপ্রথম, আমি আল—জামিয়া আল—ইসলামিয়া পটিয়ার পক্ষ থেকে, আমার হৃদয় গভীর থেকে জামিয়ার আসাতিযায়ে কিরামের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি, আমাদের প্রিয় ছাত্র ভাইদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা ও দোয়া নিবেদন করছি।
এক সময় ছিল, যখন পুরস্কার ঘোষণা হলে আমাদের মাথা হেঁট হয়ে যেত। পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্টানে লজ্জায় চোখ তুলে তাকাতে পারতাম না। পটিয়া নিয়ন্ত্রাধিন ইত্তেহাদে মেধা তালিকায় পটিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদের নাম থাকতো না, থাকলেও নামমাত্র। ফলাফলের মাঝে পটিয়ার নাম ছিল পিছনের কাতারে।
আমি নিজে চন্দনাইশ, পটিয়া মিলিয়ে আঞ্চলিক ইত্তেহাদের অনেক অনুষ্ঠানে গিয়েছি—,সেখানে আমরা কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারিনি। লজ্জা ও সংকোচে নত থাকতে হতো।
তবে আলহামদুলিল্লাহ, আজ সেই দৃশ্যপট বদলে গেছে। আঞ্চলিক ইত্তেহাদে আমাদের ছাত্ররা অনেক ভালো ফলাফল করেছে। ইত্তেহাদুল মাদারিস এর পরীক্ষায় আমাদের ছাত্ররা খুব ভালো রেজাল্ট করেছে এবং হাইয়াতুল উলিয়ার ফলাফলে আমরা ক্রমাগত উন্নতি করছি। মেধা তালিকায় বারবার আমাদের ছাত্রদের নাম উঠে আসছে। এই সাফল্য শুধু হাওয়ায় আসেনি—এ নিয়ে বহুবার মজলিসে আলোচনা হয়েছে, কার্যকর পরিকল্পনা হয়েছে—আর তারই বাস্তব প্রতিফলন আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক বলেন, “وَفِي ذَٰلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ” “এই প্রতিযোগিতায়ই যেন প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করে।” (সূরা মুতাফফিফীন: ২৬) একই জামাতের একজন পুরস্কার পেল, আর আমি পেলাম না—এই উপলব্ধিই যেন প্রতিযোগিতার স্পৃহা তৈরি করে। জানামতে, জামিয়ার সব জামাতের ছাত্রদের মেহনত চোখে পড়ার মতো। আমরা আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া করি—তিনি যেন তাঁদেরকে আরও বেশি মেহনত করার তাওফিক দেন এবং সেই মেহনত কবুল করে নেন।
আমাদের পূর্বঘোষণা ছিল—যে জামাতের ছাত্ররা প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান অধিকার করবে, তাদের ওস্তাদদেরকেও পুরস্কার দেয়া হবে। সে অনুযায়ী আমরা জামাতে চাহারুমের জিম্মাদার ও জামাতে নাহুমের জিম্মাদারদেরকে পুরষ্কার প্রদান করেছি। দাওরায়ে হাদিসের মেধাবী ছাত্রদের আমরা দু’টি দলে ভাগ করে তাদেরকে নিয়ে মেহনত করার জন্য দুইজন জিম্মাদার নিযুক্ত করেছি।তাদেরকে বলে দিয়েছি যে জিম্মাদারের দলের ছাত্ররা ভালো করবে মেধাতালিকায় ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জন করবে , তাকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হবে। সে হিসেবে দাওরায়ে হাদিসের জিম্মাদারদের পুরষ্কার প্রদান করা হয়েছে।
হাইয়াতুল উলয়া পরীক্ষায় পটিয়ার ছাত্ররা ইতিহাস তৈরি করেছে। প্রতিবছর মেধা তালিকায় শীর্ষে থাকছে। কোন ১০ জন, ১২ জন মেধা তালিকায় আসতেছে। গত বছর আমাদের বিপদের সময় যেখানে আমাদের ছাত্ররা পড়াশোনা করতে পারে নাই। রাত—দিন একটি আতঙ্কের মধ্যে ছিল। দীঘ বিভিন্ন দায়িত্বের মধ্যে ছিল। তারপরেও গত বছর ১০ জন মেধা তালিকায় এনেছে। এটা আল জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার কারামত। মকবুলিয়্যতের আলামত। যে যেটাই করুক না কেন জামিয়া র কোন ক্ষতি কেউ করতে পারবে না। যারা এর ক্ষতি করতে চাইবে তাদেরই ক্ষতি হয়ে যাবে।
পুরস্কার বড় কথা নয় আল্লাহ পাকের রেজামন্দি হলে বড় কথা। “ما عندكم ينفد وما عند الله باق” “তোমাদের যা আছে তা নিঃশেষ হবে, আর আল্লাহর কাছে যা আছে তা স্থায়ী।” (সূরা নাহল: ৯৬) মেহনত করার ফলে আজকে যে সকলের সামনে পুরস্কার গ্রহণ করেছ এটা অনেক বড় পাওয়া । সকলের হৃদয়ের ভিতর এটার দ্বারা ভালো একটা প্রসংশনীয় ফলাফল বা আকর্ষণ তৈরি হচ্ছে। সকলের মধ্যে ভালো হওয়ার, ভালো করার একটা জজবা অবশ্যই আসবে। যে আমরা ও মেহনত করব। হযরত আসাতিযায়ে কেরাম যাঁরা বিভিন্ন জামাতে জিম্মাদার আছেন, তারাও তাদের জিম্মাদারি আরো ভালোভাবে জিম্মাদারী পুরা করার জন্য আগ্রহী হবে। ইনশাআল্লাহ। আমরা আশা করি সকলে মেহনতের মাধ্যমে আল জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া পুরা বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান হবে। যেখানে তালিমের ক্ষেত্রেও শীর্ষে থাকবে । তরবিয়তের ক্ষেত্রেও শীর্ষে। রুহানিয়াত দেখলেও শীর্ষে। ছাত্রদের আদব দেখলেও শীর্ষে। মুরুব্বিদেরকে দেখলেও শীর্ষে। আমরা বিশ্বাস করি—এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে, আল—জামিয়া আল—ইসলামিয়া পটিয়া বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিগণিত হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা যদি সম্মিলিত ভাবে সকলে মেহনত করি আমাদের জন্য ভালো একটা নতিজা ও ভালো ফলাফল আমাদের সামনে আসতেছে। ইনশাআল্লাহ আগামীর মধ্যেও যারা ভালো ফলাফল করবে আমরা তাদের জন্যও আরও ভালো পুরস্কারের ব্যবস্থা করব।
ছাত্রদের উদ্দেশ্যে আবারও বলি—তোমাদের পড়াশোনাই একমাত্র ব্যস্ততা হোক। বাহিরের রাজনীতি, বিভ্রান্তি, সময়ের অপচয় তোমাদের কোন উপকারে আসবে না।
ہمیں دنیا سے کیا مطلب؟ مدرسہ ہے وطن اپنا
مریں گے ہم کتابوں پر، ورق ہوگا کفن اپنا
তুমি যদি মেহনত করো, ইলমে মজবুত হও, ভালো আলেম হও—তবে রাজনীতিবিদরা তোমার পিছনে আসবে। আজকে যারা তোমার দ্বারা রাজনীতি করাতে চায়, তারা আসলে তোমার ক্ষতিই করে।
তাই একটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত—আদর্শ, যোগ্য, মেহনতী আলেম হওয়া। তবেই দুনিয়া তোমার মূল্য বুঝবে, তোমাকে অনুসরণ করবে। আর এর প্রাথমিক মঞ্চ হচ্ছে—এই মাদ্রাসা। এখানেই মেহনত করতে হবে, এখান থেকেই প্রস্তুত হতে হবে। সব ওস্তাদ, সব ছাত্রকে বলছি—আমরা সবাই মেহনত করব। এই ভালো পরিবেশকে আরও উন্নত করব, ইনশাআল্লাহ।
দোয়া ও সমাপ্তি
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে জামিয়ার শায়খুল হাদীস হযরত মুফতি আহমদুল্লাহ সাহেব (দা.বা.) এক হৃদয়গ্রাহী মুনাজাত পরিচালনা করেন। দোয়ায় তিনি ছাত্র, ওস্তাদ, জিম্মাদার ও সকল মেহনতকারীর মেহনত ও কুরবানিকে কবুল করার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print