ইসলামী শরিয়তে মানুষের সম্পদ ও মালিকানার অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন ব্যক্তি তাঁর জীবদ্দশায় নিজের বৈধ সম্পদ ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন এবং শরিয়ত নির্ধারিত পদ্ধতিতে অন্যের মালিকানায়ও তা হস্তান্তর করতে পারেন। তবে সম্পদ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে শুধু বাহ্যিক দলিল বা আইনি আনুষ্ঠানিকতা যথেষ্ট নয়; বরং শরিয়তের নিজস্ব কিছু শর্ত ও বিধান রয়েছে।
বিশেষত হেবা বা দান ইসলামী ফিকহের একটি স্বতন্ত্র বিষয়। হেবা সম্পন্ন হওয়ার জন্য দাতার পক্ষ থেকে দান, গ্রহীতার পক্ষ থেকে গ্রহণ এবং শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে কবজ প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি যদি সম্পত্তির মালিকানা অন্যের কাছে হস্তান্তর করার দাবি করেন, অথচ সেই সম্পত্তির ভোগদখলের মৌলিক অধিকার নিজের কাছেই সংরক্ষণ করেন, তাহলে বিষয়টি নিছক একটি আইনি নিবন্ধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এর সঙ্গে শরিয়তের হেবা-সংক্রান্ত মৌলিক বিধানের প্রশ্ন জড়িয়ে যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে “ভোগদখলের অধিকার (Right of usufruct) সংরক্ষণপূর্বক দান” নামে যে বিধান উত্থাপিত হয়েছে, তার সঙ্গে ইসলামী হেবা আইনের মৌলিক বিধানের সংঘাত রয়েছে। একজন মুসলিমের জন্য বিষয়টি তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে শরিয়তের অবস্থান সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত বিধানের মূল বক্তব্য
উত্থাপিত বিধানের মূল বক্তব্য হলো, কেউ কোনো সম্পত্তি দান করে দেওয়ার পরও নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার নিজের কাছে রাখতে পারবেন। এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট দান নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।
একবার নিবন্ধিত হলে সাধারণভাবে দানটি ফেরত নেওয়া যাবে না। তবে দাতা ও গ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতিতে প্রকৃত প্রয়োজনের কারণে তা পরিবর্তন বা প্রত্যাহার করা যেতে পারে। কোনো পক্ষের সম্মতি পাওয়া সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জেলা জজের অনুমোদন নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
বাহ্যিকভাবে এটি সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি আইনি ব্যবস্থা মনে হলেও ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে এখানে মৌলিক একটি প্রশ্ন রয়েছে: দান করার পর দাতা যদি সেই সম্পত্তির ভোগদখলের অধিকার নিজের জন্য সংরক্ষণ করেন, তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে আদৌ কি হেবা সম্পন্ন হলো? এই প্রশ্নের উত্তর ইসলামী ফিকহের আলোকে স্পষ্ট।
ইসলামে হেবা কী?
ফিকহের পরিভাষায় হেবা হলো:
هِيَ تَمْلِيكُ الْعَيْنِ بِلَا عِوَضٍ
অর্থাৎ, কোনো বিনিময় ছাড়াই কোনো সম্পত্তির মূল মালিকানা অন্যের কাছে হস্তান্তর করাকে হেবা বলা হয়।
অতএব, হেবার মূল বিষয় হলো মালিকানা হস্তান্তর। দাতা যখন কোনো সম্পত্তি অন্যকে হেবা করেন, তখন শরিয়তসম্মতভাবে সেই সম্পত্তির মালিকানা গ্রহীতার কাছে চলে যায়। কিন্তু শুধু মুখে হেবা করা বা কাগজে-কলমে মালিকানা লিখে দেওয়াই যথেষ্ট নয়। হেবা পূর্ণ হওয়ার জন্য শরিয়তের নির্ধারিত কবজ গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
হেবা শুদ্ধ হওয়ার জন্য কবজ অপরিহার্য
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী হেবা কার্যকর হওয়ার জন্য হেবাকৃত সম্পত্তির কবজ গ্রহণ করা অপরিহার্য। বাদায়েউস সানায়ে বলা হয়েছে;
لِأَنَّ الْقَبْضَ فِي الْهِبَةِ بِمَنْزِلَةِ الرُّكْنِ، فَيُشْتَرَطُ لَهُ الْمَجْلِسُ كَمَا يُشْتَرَطُ لِلْقَبُولِ অর্থাৎ, হেবার ক্ষেত্রে কবজ রুকনের পর্যায়ভুক্ত। তাই কবজের জন্যও একই মজলিসের শর্ত রয়েছে, যেমন কবুলের ক্ষেত্রে একই মজলিসের শর্ত রয়েছে।
এ থেকে বোঝা যায়, হেবা শুধু একটি কাগজে মালিকানা লিখে দেওয়ার নাম নয়। বরং হেবাকৃত সম্পত্তির ওপর গ্রহীতার কর্তৃত্ব ও কবজ প্রতিষ্ঠিত হওয়া হেবার পূর্ণতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুতরাং, কেউ যদি কোনো সম্পত্তি হেবা করার পরও সেই সম্পত্তির ভোগদখলের অধিকার নিজের জন্য সংরক্ষণ করেন, তাহলে এখানে হেবার প্রকৃত স্বরূপ নিয়েই প্রশ্ন দেখা দেয়। কারণ হেবার মাধ্যমে যে মালিকানা ও কর্তৃত্ব অন্যের কাছে হস্তান্তর করার কথা, তার একটি মৌলিক অংশ দাতা নিজের কাছে রেখে দিচ্ছেন।
হেবা করে আবার দাতার নিজের ভোগদখল
প্রস্তাবিত “ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান” ব্যবস্থায় দাতা সম্পত্তির মালিকানা অন্যের কাছে হস্তান্তর করবেন, কিন্তু নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার নিজের কাছে রেখে দেবেন। শরিয়তের দৃষ্টিতে এখানেই মৌলিক আপত্তি।
হেবা যদি সত্যিকার অর্থে সম্পন্ন হয়, তাহলে হেবাকৃত সম্পত্তির ওপর গ্রহীতার মালিকানা ও কবজ প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। কিন্তু দাতা যদি বলেন, “আমি সম্পত্তিটি তোমাকে দিয়ে দিলাম, তবে আমার জীবদ্দশায় এর ভোগদখলের অধিকার আমার কাছেই থাকবে”, তাহলে হেবার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও শরিয়ত নির্ধারিত কবজের বিধানের সঙ্গে তা সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে।
অতএব, শুধু নিবন্ধিত দলিল সম্পাদন করলেই শরিয়তের দৃষ্টিতে হেবা সহিহ হয়ে যাবে না। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী হেবার শর্তও পূরণ হতে হবে।
হযরত আবু বকর (রা.)-এর দৃষ্টান্ত
এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের আমল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুআত্তা ইমাম মালেক-এ হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) ও তাঁর কন্যা হযরত আয়েশা (রা.)-এর একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
হযরত আবু বকর (রা.) তাঁর আল-আলিয়া (العالية) নামক সম্পত্তি থেকে বিশ ওয়াসাক পরিমাণ খেজুরের ফলন হযরত আয়েশা (রা.)-কে হেবা করেছিলেন। কিন্তু হযরত আয়েশা (রা.) তখন তা কবজ করেননি। অতঃপর হযরত আবু বকর (রা.) যখন সেই অসুস্থতায় আক্রান্ত হলেন, যে অসুস্থতায় তাঁর ইন্তেকাল হয়, তখন তিনি হযরত আয়েশা (রা.)-কে বললেন;
جَاءَ فِي الْمُوَطَّإِ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ وَهَبَ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا جَذَاذَ عِشْرِينَ وَسْقًا مِنْ مَالِهِ بِالْعَالِيَةِ، فَلَمَّا مَرِضَ مَرَضَهُ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ قَالَ لَهَا: كُنْتُ قَدْ نَحَلْتُكِ عِشْرِينَ وَسْقًا، وَلَوْ كُنْتِ قَبَضْتِيهِ، أَوْ حُزْتِيهِ كَانَ لَكِ، فَإِنَّمَا هُوَ الْيَوْمَ مَالُ وَارِثٍ، فَاقْتَسِمُوهُ عَلَى كِتَابِ اللهِ تَعَالَى.
অর্থাৎ, হযরত আবু বকর (রা.) হযরত আয়েশা (রা.)-কে তাঁর আল-আলিয়া সম্পত্তির বিশ ওয়াসাক খেজুরের ফলন হেবা করেছিলেন। এরপর যখন তিনি সেই অসুস্থতায় আক্রান্ত হলেন, যে অসুস্থতায় তাঁর ইন্তেকাল হয়, তখন তিনি হযরত আয়েশা (রা.)-কে বললেন: “আমি তোমাকে বিশ ওয়াসাক হেবা করেছিলাম। তুমি যদি তা কবজ করে নিতে বা দখলে নিয়ে নিতে, তাহলে তা তোমারই হতো। কিন্তু এখন তা উত্তরাধিকারীর সম্পদ। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী তা বণ্টন করে নাও।”
এই ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ হযরত আবু বকর (রা.)-এর মতো মহান সাহাবি তাঁর জীবদ্দশায় হেবা করার পরও যখন গ্রহীতার কবজ প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তখন মৃত্যুর পূর্বে সেটিকে নিজের সম্পদ হিসেবে গণ্য করেছেন এবং বলেছেন, এখন তা উত্তরাধিকারীদের সম্পদ।
ইবনু হাজার আসকালানি (রহ.) আত-তালখীসুল হাবীর-এ এ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন;
قَالَ ابْنُ حَجَرٍ فِي التَّلْخِيصِ عِنْدَ الْكَلَامِ عَلَيْهِ: فَائِدَةٌ، اسْتَدَلَّ الرَّافِعِيُّ بِذَلِكَ عَلَى أَنَّ الْهِبَةَ لَا تُمَلَّكُ إِلَّا بِالْقَبْضِ.
অর্থাৎ, ইবনু হাজার (রহ.) বলেন: “ইমাম রাফেয়ী এই বর্ণনার মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করেছেন যে, কবজ না করা পর্যন্ত হেবার মাধ্যমে মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় না।”
নিবন্ধিত দলিল কি শরিয়তের কবজের বিকল্প?
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। আধুনিক রাষ্ট্রীয় আইনে কোনো সম্পত্তি নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হলে তা আইনগতভাবে কার্যকর হতে পারে। কিন্তু একজন মুসলমানের জন্য শরিয়তের বিধান একটি স্বতন্ত্র বিষয়।
রাষ্ট্রীয় নিবন্ধন হেবা-সংক্রান্ত শরিয়তের মৌলিক শর্তকে বাতিল করে দিতে পারে না। অর্থাৎ, দলিল নিবন্ধিত হলেই শরিয়তের দৃষ্টিতে হেবা সম্পন্ন হয়ে যাবে, এমন নয়।
বিশেষত যখন প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় দাতা নিজেই সম্পত্তির ভোগদখলের অধিকার নিজের কাছে সংরক্ষণ করছেন, তখন হেবার ক্ষেত্রে শরিয়ত নির্ধারিত কবজ ও মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়টি স্পষ্টতই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
মৃত্যুর পর সম্পত্তির কী হবে?
যদি কোনো ব্যক্তি জীবদ্দশায় কোনো সম্পত্তি হেবা করার দাবি করেন, কিন্তু শরিয়তসম্মতভাবে গ্রহীতার কবজ প্রতিষ্ঠিত না হয়, তাহলে দাতার মৃত্যুর পর সেই সম্পত্তি তাঁর মালিকানাধীন সম্পদ হিসেবেই গণ্য হবে। তখন সেটি তাঁর অন্যান্য সম্পদের মতো মিরাসের সম্পদ হবে এবং শরিয়তের নির্ধারিত নিয়মে সকল যোগ্য ওয়ারিশের মধ্যে বণ্টিত হবে।
সুতরাং, শুধু নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে কাউকে সম্পত্তির মালিক বানিয়ে দিয়ে দাতা যদি নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তির ভোগদখলের অধিকার রেখে দেন, তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে সেটিকে বৈধ হেবা হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।
শরিয়তের বিধান ও রাষ্ট্রীয় আইনের সামঞ্জস্য
বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক নাগরিক মুসলমান এবং তাঁদের পারিবারিক সম্পদ, উত্তরাধিকার ও দান-হেবা সংক্রান্ত বিষয়গুলো বহু ক্ষেত্রে ইসলামী বিধানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এ কারণে মুসলমানদের ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আমরা মনে করি, সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এমন কোনো আইনি ব্যবস্থা থাকা উচিত নয়, যার কারণে একজন মুসলমান রাষ্ট্রীয় আইনের অধীনে এমন একটি কাজ করতে পারেন, যা তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস ও শরিয়তের বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
উপসংহার:
উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, “ভোগদখলের অধিকার (Right of usufruct) সংরক্ষণপূর্বক দান” ব্যবস্থা ইসলামী হেবা-নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ ইসলামী হেবার মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো বিনিময় ছাড়া সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর এবং হেবাকৃত সম্পত্তির ওপর গ্রহীতার শরিয়তসম্মত কবজ প্রতিষ্ঠা। দাতা নিজের জন্য সেই সম্পত্তির ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণ করলে হেবার মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে তা সাংঘর্ষিক হয়ে যায়।
অতএব, সরকারের প্রতি আমাদের জোর দাবি হলো, জাতীয় সংসদে উত্থাপিত “ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান” সংক্রান্ত বিধানটি পুনর্বিবেচনা করে প্রত্যাহার করতে হবে এবং মুসলমানদের স্বীকৃত ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতি, শরিয়তের বিধান এবং পারিবারিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার বাস্তবতাকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।
আলেম-ওলামা, আইনজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী ও সচেতন নাগরিকদের উচিত তথ্য ও দলিলের ভিত্তিতে বিষয়টি জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।
আমরা আশাবাদী, সরকার বাংলার আঠারো কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতি ও শরিয়তের বিধানের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবে এবং এমন কোনো আইন বাস্তবায়ন করবে না, যা মুসলমানদের স্বীকৃত ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
নিবেদক- আল্লামা মুফতী একরাম হোসাইন অদুদী
সভাপতি: আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ (কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড)
মুহতামিম: আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম


