
আল—জামিয়া আল—ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রামের দারুল হাদীস মিলনায়তনে আজ দেশের অন্যতম প্রাচীন কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ—এর বার্ষিক মজলিসে উমূমী ও মজলিসে শূরা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জামিয়ার মুহতামিম মুফতি আবু তাহের কাসেমী নদভী।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন জামিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা কাজী মুহাম্মদ আখতার হোসাইন আনোয়ারী।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ তানভীর হাসান ও মাওলানা হাফেজ মাহফুজুল হক। নাতে রাসূল ﷺ পরিবেশন করেন হাফেজ তানভীরুল হক তাহসীন।
সভায় দেশব্যাপী বিভিন্ন জামিয়া ও মাদরাসার মুহতামিম ও প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—
মাওলানা শাহ সালাহউদ্দিন নানুপুরী (জামিয়া ওবায়দিয়া নানুপুর),
মাওলানা হাফেজ খোবায়েব (জামিয়া আরাবিয়া জিরি),
মাওলানা হাবিবুল্লাহ হাশিমপুরী (দোহাজারী আজিজিয়া),
মাওলানা শিহাব উদ্দিন (মদুনাঘাট ইউনুসিয়া),
মুফতি আব্দুল কাদের (রাঙ্গুনিয়া কোদালা),
মাওলানা হারুন (নায়েবে মুহতামিম, শোলকবহর),
মাওলানা নিজাম উদ্দিন (চন্দ্রঘোনা মাদরাসা),
মাওলানা ফরিদ উদ্দিন আল মোবারক (ফেনী হরিপুর),
মাওলানা হাফেজ তাজুল ইসলাম (ফিরোজশাহ),
মাওলানা সোলায়মান (বদরখালী),
মাওলানা আহসানুল্লাহ (মহেশখালী মাতারবাড়ী),
মাওলানা আনোয়ারুল আলম (চকরিয়া চিরিঙ্গা),
মাওলানা আলী হাছান চৌধুরী (উমিদিয়া, কক্সবাজার),
মাওলানা আবছার চৌধুরী (জামিয়া ইমাম মুসলিম, কক্সবাজার),
মাওলানা আবু বকর (সন্দ্বীপ),
মাওলানা হাবিবুল ওয়াহেদ (রাজঘাটা),
মুফতি খালেদ (আমতলী, ফটিকছড়ি),
মাওলানা জুনায়েদ (কাজীরহাট, ফটিকছড়ি),
মাওলানা উসমান (তালিমুদ্দীন, ফটিকছড়ি) প্রমুখ।
গত বছরের কার্যক্রম ও বর্তমান শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা—সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন আঞ্জুমানের মহাসচিব আল—আল্লামা মুফতি ইকরাম হোসাইন ওয়াদুদী।
সভায় সংবিধান অনুমোদন, সভাপতি নির্বাচন, কমিটির শূন্য পদ পূরণ, পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণসহ গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডাসমূহ আলোচিত হয়।
এছাড়াও ১৪৪৫/৪৬ হি. শিক্ষাবর্ষের মারকাজী পরীক্ষায় মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ ৩৩৮ জন ছাত্রকে পুরষ্কার প্রদান করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মুফতি আবু তাহের কাসেমী নদভী জামিয়ার সাবেক শায়খুল হাদিস, সদরে মুহতামিম ও আঞ্জুমানের সাবেক সভাপতি মুফতি হাফেজ আহমদ উল্লাহ (রহঃ)—এর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁর মাগফিরাত কামনা করেন।
তিনি বলেন—
“আল—জামিয়া আল—ইসলামিয়া পটিয়া হচ্ছে মারকাযী দ্বীনি এদারা, যার তত্ত্বাবধানে আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়ে আসছে। এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে দেশের কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার ঐক্য, মানোন্নয়ন ও পরীক্ষাব্যবস্থার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”
তিনি আরও বলেন—
“জামিয়া পটিয়া কর্তৃক পরিচালিত বাংলাদেশ তাহফিজুল কোরআন সংস্থা যুগ যুগ ধরে পবিত্র কোরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াতে কাজ করে আসছে। কচিকাচা হাফেজদের জন্য দেশব্যাপী তাহফিজুল কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন করে আসছে। এবছর থেকে হিফজ শিক্ষকদের জন্য ২০ দিনব্যাপী হিফজ শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা হয়েছে।
এছাড়া জামিয়া পটিয়ার তত্ত্বাবধানে নুরানী শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা প্রতি মাসে ৩০ দিনব্যাপী নুরানী মুয়াল্লিম প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করছে। এবং ইনশাআল্লাহ আগামী বছর থেকে দরসিয়াত বিভাগের মুয়াল্লিম ট্রেনিং কোর্স চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।”
সভা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মুফতি আবু তাহের কাসেমী নদভী—কে আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের সভাপতি এবং আল—আল্লামা মুফতি ইকরাম হোসাইন ওয়াদুদী—কে মহাসচিব মনোনিত করা হয়।

