আমরা কারো প্রতিপক্ষ নই, বরং সকলের সহযোগী হবো, (ইনাশা আল্লাহ) “নূরানী শিক্ষা বোর্ড পটিয়া”-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জামিয়া প্রধান মুফতি আবু তাহের কাসেমী নদভী হাফি.

দ্বীনী ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে ‘ইবতিদায়ী শিক্ষা’কে সুচারুরূপে গঠন ও পরিচালিত করার লক্ষ্যে আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার তত্ত্বাবধানে গঠন করা হয় স্বতন্ত্র শিক্ষা বোর্ড “নূরানী শিক্ষা বোর্ড পটিয়া”। আজ বেলা এগারোটায় জামিয়ার দারুল হাদিসে এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
মাওলানা ইরফান কাসেমীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ‘উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে’ সভাপতিত্ব করেন জামিয়া প্রধান মুফতি আবু তাহের কাসেমী নদভী (হাফি.)। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোরআন শিক্ষায় নূরানী পদ্ধতি এক অনন্য বিপ্লব সাধন করেছে। আমরাও এই বিপ্লবে শরীক হতে চাই। এ জন্য এই বোর্ডের গঠন। এ দেশে বিভিন্ন বোর্ড শিক্ষা বিস্তারে কাজ করছে। আমরা পরস্পর সহযোগী হবো। আমরা কারো ’ফরিক’ নই, সকলের ’রফীক’ হয়ে কাজ করবো। আমরা কারো প্রতিপক্ষ নই, বরং সকলের সহযোগী হবো, ইনশা আল্লাহ।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জামিয়ার শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি হাফেজ আহমদুল্লাহ (হাফি.)। তিনি বলেন, পবিত্র কুরআনের বিশুদ্ধতা ও সাবলিলতার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে এ নূরানী পদ্ধতিতে। ছাত্ররা যেন দুই-তিন বছরের মধ্যে পবিত্র কোরআন বিশুদ্ধভাবে সুমুধুর কণ্ঠে তেলাওয়াত করার যোগ্য হয়ে উঠে এ বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আল্লামা মুফতি শামসুদ্দিন জিয়া (হাফি.)। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকারিভাবে (পিটিআই, বিএড) ইত্যাদির মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। আমাদের জামিয়া পটিয়ায় বেসরকারিভাবে ইতিপূর্বে এ ধরণের প্রশিক্ষণ চালু ছিলো। কোন কারণে কিছুদিন সেগুলি বন্ধ ছিলো। আশা করি, স্থায়ী নূরানী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ যেমন চালু হয়েছে, ঠিক তেমনি উপরের স্তরগুলির প্রশিক্ষণও চালু করা যেতে পারে। এর জন্য আমাদের জামিয়া পটিয়ার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ‘আঞ্জুমানে ইত্তিহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ’ সুন্দর একটি উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। তিনি পাঠ্যক্রম সম্পাদনের প্রতি গুরুত্বারূপ করে বলেন, অভিজ্ঞ ও দক্ষ লোকের মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করতে হবে। অতঃপর মাঠ পর্যায়ে এর কার্যকরিতা যাচাই করে পুঃমুদ্রণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অতঃপর মাওলানা কাজী আখতার হোসেন আনোয়ারী (হাফি.) ‘বোর্ডের’ কমিটি ঘোষণা করেন।
১. উপদেষ্টা কমিটি গঠন:
(১) আল্লামা মুফতি হাফেজ আহমদুল্লাহ (হাফি.)
(২) আল্লামা মুফতি শামসুদ্দিন জিয়া (হাফি.)
(৩) আল্লামা মুফতি একরাম হোসাইন ওদুদী (হাফি.)
(৪) আল্লামা মুফতি জসীমুদ্দিন কাসেমী (হাফি.)
(৫) আল্লামা আব্দুল জলীল কওকব (হাফি.)
২. নয় সদস্য বিশিষ্ট একটি কার্যকরি পরিষদ গঠন করা হয়।
কার্যকরি পরিষদ:
সভাপতি: জামিয়া প্রধান মুফতি আবু তাহের কাসেমী নদভী
সহ সভাপতি: মাওলানা হাফেয যাকারিয়া আযহারী
সহ সভাপতি: মাওলানা কাজী আখতার হোসেন আনওয়ারী
সাধারণ সম্পাদক: মাওলানা ইরফান কাসেমী
সাংগঠনিক সম্পাদক: মুফতি মানযুর সিদ্দিক
অর্থ সম্পাদক: মাওলানা হাফেজ ফোরকান
প্রশিক্ষণ সম্পাদক: মাওলানা হাফেজ মাসূম
পাঠ্যক্রম সম্পাদনা ও প্রকাশনা সম্পাদক: মাওলানা সলিমুদ্দিন মাহদি
শিক্ষা গবেষণা সম্পাদক: মাওলানা মুহাম্মদ নুরুল আবছার
৩. সম্পাদনা পরিষদ:
(সিলেবাস প্রণয়ন ও বই-পুস্তুক সম্পাদনা ও প্রকশনার জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি সম্পাদনা পরিষদ গঠন করা হয়)
(১) মাওলানা ইরফান কাসেমী ।
(২) মাওলানা হাবীবুল্লাহ।
(৩) মুফতি মানযুর সিদ্দিক।
(৪) মাওলানা সলিমুদ্দিন মাহদি কাসেমী (আহবায়ক)।
(৫) মাওলানা এহসানুল হক আল-আযহারী।
৪. অডিট কমিটি গঠন :
(তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি অডিট কমিটি গঠন করা হয়)
(১) মাওলানা নুরুল আবছার (আহবায়ক)।
(২) মাওলানা হাফেজ মাসুম ।
(৩) প্রফেসর আবুল হোসেন।
পরিশেষে জামিয়ার শায়খুল হাদিস আল্লামা হাফেজ আহমদুল্লাহ (হাফি.)-এর দুআ ও মুনাজাতের মাধ্যমে ‘উদ্বোধনী অনুষ্ঠান’ সমাপ্ত হয়।
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print