

ইলমে কিরাআতের নিবেদিতপ্রাণ একজন সেবক, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার সম্মানিত কেরাত বিভাগের দীর্ঘদিনের শিক্ষক কারী নবীহ হাসান (হাফিযাহুল্লাহ) শারীরিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে বেল্লাপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে অবস্থান করছেন।
এই প্রিয় উস্তাদকে দেখতে তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হন জামিয়া পটিয়ার প্রধান ও ন্যাশনাল কাউন্সিল মেম্বার মুফতি আবু তাহের কাসেমী নদভী (দা.বা)। সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন কেরাত বিভাগের দায়িত্বশীল কারী আব্দুস সামাদ সাহেব, কারী আহমদুল হক সাহেব, মাওলানা হাফেয ফোরকান সাহেব, মাওলানা নুরুল আবছার সাহেব, মাওলানা হাফেয মাসূম সাহেব এবং মাওলানা সালিমুদ্দিন মাহদী কাসেমী সাহেব।
তাঁরা সকলেই কারী সাহেবের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য আল্লাহ তাআলার দরবারে আন্তরিকভাবে দুআ করেন।
এ সময় আবেগভেজা কণ্ঠে কারী নবীহ হাসান (হা.) বলেন:
“আমি আপনাদের এই দয়া, ভালবাসা ও খেয়াল রাখার জন্য অন্তরের গভীর থেকে শুকরিয়া আদায় করছি। আল্লাহর দরবারে বিনীত দুআ করি—তিনি যেন আমাকে সুস্থতা দান করেন এবং আমাকে এমন হালত দান করেন যাতে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কোরআনের খেদমতে লিপ্ত থাকতে পারি।”
জামিয়ার প্রধান মুফতি আবু তাহের কাসেমী (দা.বা) তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন:
“জামিয়ার পক্ষ থেকে আপনি সবসময়ই আমাদের আপনজন। আপনি যেন কোরআনের খেদমতে আরও দীর্ঘ সময় নিবেদিত থাকতে পারেন, এজন্য আমরা প্রয়োজনীয় সব রকম সহায়তা ও সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত ইনশাআল্লাহ।”
সুন্নতের অনুসরণ ও ইসলামী ভ্রাতৃত্বের অনুপম দৃষ্টান্ত
রোগীকে দেখতে যাওয়া ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও মানবিক দায়িত্ব। হাদীসে এসেছে—
قال رسول الله ﷺ:
“مَن عادَ مريضًا أو زار أخًا له في الله، ناداه منادٍ: أن طِبتَ وطابَ ممشاكَ، وتبوأتَ من الجنةِ منزلًا”
(رواه الترمذي)
অর্থ: “যে ব্যক্তি কোনো রোগীকে দেখতে যায় অথবা আল্লাহর জন্য কোনো ভাইকে সাক্ষাৎ করে, একজন ফেরেশতা তাকে আহ্বান করে বলেন: তুমি পবিত্র হলে, তোমার পদক্ষেপ পবিত্র হলো এবং তুমি জান্নাতে একটি আবাস লাভ করলে।” (তিরমিযি)
রোগীর দুঃখ ও কষ্টে অংশগ্রহণ করা, তাঁকে সাহস দেওয়া, সান্ত্বনা প্রদান এবং তাঁর জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করা—ইসলামী ভ্রাতৃত্বের প্রকৃষ্ট নিদর্শন।
জামিয়া পটিয়া প্রধানের এই সৌজন্যমূলক সফর নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি একজন শিক্ষক ও মুরব্বীর প্রতি দ্বীনি দায়িত্বশীলতা, আন্তরিক সহমর্মিতা এবং সুন্নতের এক জীবন্ত প্রতিফলন।
হযরতের বাসভবনের দরজায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে জামিয়ার প্রধান মুফতি আবু তাহের কাসেমী নদভী (দা.বা) এবং সফরসঙ্গী ওলামায়ে কেরাম সকলে মিলে আবেগভরে রোগীর আরোগ্য কামনায় দুআ করেন। এ সময় তাঁরা হাদীসে বর্ণিত দুইটি দোয়া পাঠ করেন, যার একটি কোরআনের আলোকে রোগমুক্তির আবেদন, অন্যটি সাতবার পাঠে শারীরিক আরোগ্যের সুসংবাদবিশিষ্ট।
প্রথমে তাঁরা পাঠ করেন—
اللهم رب الناس أذهب البأس واشف أنت الشافي، لا شفاء إلا شفاؤك، شفاءً لا يغادر سقمًا
অর্থ: হে সকল মানুষের পালনকর্তা! আপনি কষ্ট দূর করুন, আপনি শিফা দিন। আপনিই একমাত্র শিফাদাতা। আপনার শিফা ছাড়া আর কোনো শিফা নেই। আপনি এমন আরোগ্য দিন, যা কোনো ব্যাধিকে অবশিষ্ট না রাখে।
(সহীহ বুখারী: ৫৩৫১; সহীহ মুসলিম: ২১৯১)
এরপর তাঁরা হাদীসে বর্ণিত আরেকটি বরকতময় দোয়া সাতবার পাঠ করেন, যাতে রোগমুক্তির সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে:
أسأل الله العظيم رب العرش العظيم أن يشفيك
অর্থ: আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি, যিনি মহা আরশের অধিপতি—তিনি যেন আপনাকে শিফা দান করেন।
(তিরমিযি: ২০৮০; আবু দাউদ: ৩১০৬ – হাদীসটি হাসান)
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন:
“যে ব্যক্তি কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যায়, যার মৃত্যু উপস্থিত হয়নি, এবং তার সামনে সাতবার এ দোয়া পাঠ করে—তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে সে রোগ থেকে আরোগ্য দান করেন।”
এই দুআ ও সাহচর্য শুধু রোগীকে মানসিক বল জোগায় না, বরং তা ইসলামী ভ্রাতৃত্ব, সুন্নতের অনুসরণ ও হৃদয় থেকে হৃদয়ে পৌঁছে যাওয়া এক দীনী সৌহার্দ্যের আলোকদ্যুতী ছোঁয়া।
আমরা সকলেই দুআ করি—আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের প্রিয় উস্তাদ কারী নবীহ হাসান (হা.)-কে শীঘ্রই পূর্ণ আরোগ্য দান করেন, এবং শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তাঁকে কোরআনের খেদমতে নিয়োজিত রাখেন—আমিন।

