আল্লাহ তাআলার অশেষ মেহেরবানিতে জানানো যাচ্ছে যে, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ায় নতুন শিক্ষাবর্ষে আজ ৮ই শাওয়াল থেকে ২৩শে শাওয়াল পর্যন্ত (মোট ১৫ দিন) ভর্তি কার্যক্রম চলবে, ইনশাআল্লাহ। প্রতিটি জামাতে কোটা ভিত্তিতে ভর্তি নেওয়া হবে। মেধাবী, চরিত্রবান ও দ্বীনি মানসিকতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য আবশ্যিক নীতিমালা
১. আকিদা ও আমল
- শিক্ষার্থীকে অবশ্যই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারী হতে হবে।
- সুন্নাতে রাসূল অনুযায়ী জীবনযাপন করা আবশ্যক।
- দাড়ি, চুল ও পোশাক-পরিচ্ছদ সালাফে সালেহীন; তথা আকাবিরে দেওবন্দের আদর্শ ও সুন্নাত অনুযায়ী হতে হবে।
২. আদর্শ ও নীতিমালা
- জামিয়ার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিপন্থী কোনো কাজ করা যাবে না।
- রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা নিষিদ্ধ।
- মিছিল, সভা-সমাবেশ বা দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- উল্লিখিত নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার যোগ্য বিবেচিত হবে।
৩. প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলা বিষয়ক নীতিমালা
- ক্যাম্পাসে মোবাইল, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও সকল প্রকার ইলেকট্রনিক ডিভাইস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- ফেসবুক, ইউটিউব বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কিত লেখা বা বক্তব্য প্রদান নিষিদ্ধ।
- ক্যাম্পাসে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার নিষিদ্ধ।
৪. আনুগত্য ও আচরণ
- শিক্ষক-কর্মচারি ও প্রশাসনের প্রতি পূর্ণ সম্মান ও আনুগত্য বজায় রাখা আবশ্যক।
- অসদাচরণ, অবাধ্যতা বা বিশৃঙ্খলা করলে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করা হবে।
- রাষ্ট্র ও শরীয়ত বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ানো অমার্জনীয় অপরাধ।
৫. বহিস্কার নীতিমালা:
- কোন ছাত্র যে কোন নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রমাণিত হলে বহিস্কারযোগ্য বিবেচিত হবে।
ভর্তির শর্তাবলি
ক) পুরাতন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য-
- বার্ষিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ‘মাকবুল‘ বিভাগে উত্তীর্ণ হতে হবে।
- রাসেব ছাত্র ভর্তি অযোগ্য গণ্য হবে।
খোরাকী সুবিধা
- মুমতাজ,জায়্যিদ জিদ্দান ও জায়্যিদ: জামিয়ার দায়িত্বে (যদি শিক্ষার্থী খোরাকী প্রদানে অক্ষম হয়)।
- মাকবুল: নিজ দায়িত্বে খোরাকীর ব্যবস্থা করতে হবে।
এককালীন খোরাকী সংক্রান্ত জ্ঞাতব্য:
১. মুমতাজ বিভাগে উত্তীর্ণ ছাত্রদের জন্য এককালীন খোরাকী: ১০০০/- টাকা
২. জায়্যিদ জিদ্দান বিভাগে উত্তীর্ণ ছাত্রদের জন্য এককালীন খোরাকী: ২০০০/- টাকা
৩. জায়্যিদ বিভাগে উত্তীর্ণ ছাত্রদের জন্য এককালীন খোরাকী: ৩০০০/- টাকা
৪. মাকবুল বিভাগে উত্তীর্ণ ছাত্ররা জামিয়ার পক্ষ থেকে কোনো খোরাকী সুবিধা পাবে না।
৫. মুতাফাররিকাহ, দাহুম, এয়াযদাহুম, হিফজ, নূরানী ও নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক খোরাকী: ১৫০০/- টাকা ৬. খাস খানার খোরাকী: মাসিক ২৫০০/- টাকা
ফরম ও ভর্তি ফি:
- ফরম ফি: ১০০/- টাকা
- ভর্তি ফি: ৩০০০/- টাকা
- ইত্তিহাদ (বোর্ড ফি): ১০/- টাকা
- নওমুসলিম অনুদান: ১০/- টা0কা
- সর্বমোট: ৩১২০/- টাকা তবে এয়াযদাহুম, নূরানী ও নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি: ১৫০০/- টাকা
বিশেষ সুবিধা:
উল্লেখ্য যে, শিক্ষকমণ্ডলির সন্তান, এতীম-অনাথ এবং নাবালেগ দরিদ্র শিক্ষার্থীরা আবেদনপত্র ও সুপারিশের ভিত্তিতে ফ্রি খোরাকী সুবিধা লাভ করতে পারবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও শৃঙ্খলাবিধি:
- ভর্তি ফরমের সাথে জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি এবং ছবি জমা দিতে হবে।
- এছাড়াও ইবতিদায়ী জামাত থেকে জামাতে হাফতুম পর্যন্ত যেসব শিক্ষার্থী জামিয়ার দায়িত্বে খানা গ্রহণ করবে, তাদের ক্ষেত্রে যদি কেউ এতীম হয় তবে এতীম মর্মে এবং অসহায় হলে অসহায় মর্মে নিজ নিজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
- কোনো তালিবে ইলম বৈধ ওজরের কারণে পূর্বানুমতি ছাড়া বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করলে তাকে পরবর্তী জামাতে ভর্তি করা হবে না।
- কোনো তালিবে ইলমের গড় অনুপস্থিতি যদি ৩০% বা তার বেশি হয়, তবে তাকে পরবর্তী জামাতে তারাক্কী (উন্নীতকরণ) প্রদান করা হবে না।
- বিগত সময়ে জামিয়া কর্তৃক বহিষ্কৃত কোনো ছাত্রকে পুনরায় ভর্তি করা হবে না।
- জামিয়া কর্তৃক নির্ধারিত বুথে অনলাইন ফরম পূরণ করে প্রিন্ট কপি জমা দিতে হবে।
খ) নতুন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শর্তাবলি-
- পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র অথবা অভিভাবকের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।
- মারকাযী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে নম্বরপত্র জমা দিতে হবে। (লিখিত ভর্তি পরীক্ষার প্রয়োজন হবে না)
- গায়রে মারকাযী শিক্ষার্থীদের লিখিত/মৌখিক ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
- নবমুসলিম ছাত্রদের ক্ষেত্রে স্বাক্ষরিত এফিডেভিট আবশ্যক।
- জামিয়া কর্তৃক নির্ধারিত বুথে অনলাইন ফরম পূরণ করে প্রিন্ট কপি জমা দিতে হবে।
- কোনো পুরাতন ছাত্র নতুন ভর্তি ফরম গ্রহণ করতে পারবে না। যদি কোনো কারণে বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারে বা অনুপস্থিতির কারণে তার ছাত্রত্ব রহিত হয়, তবে সে কেবল কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের মাধ্যমে পুরাতন ফরম গ্রহ করতে পারবে। নতুন ফরমে ভর্তি হলে পরবর্তীতে তা বাতিল গণ্য হবে।
ভর্তি পরীক্ষার নিয়মাবলি
১. লিখিত ভর্তি পরীক্ষা
- জামাতে শশুম থেকে দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত সকল নতুন শিক্ষার্থীর জন্য লিখিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।
- শশুম থেকে চাহারুম জামাতের আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০% নম্বর অর্জন করতে হবে।
- সিউম থেকে দাওরায়ে হাদীস জামাতের শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যূনতম পাস নম্বর ৪০%।
- কেবলমাত্র লিখিত ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই পরবর্তী ধাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
২. মৌখিক ভর্তি পরীক্ষা
- মুতাফাররিকাহ থেকে জামাতে হাফতুম পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য মৌখিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক।
- মৌখিক পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০% নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।
- মৌখিক পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হলে ভর্তির অযোগ্য বিবেচিত হবে।
বিশেষ নির্দেশনা
- লিখিত/মৌখিক ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া ব্যতীত ভর্তি হওয়ার কোন সুযোগ থাকবে না।
- পরীক্ষার ফলাফলের বিষয়ে জামিয়া কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
- যে কোনো অনিয়ম বা অসদুপায় অবলম্বন করলে তাৎক্ষণিকভাবে ভর্তি বাতিল করা হবে।
ভর্তি পরীক্ষার কিতাবাদির তালিকা
লিখিত ভর্তি পরীক্ষার কিতাবাদি ও জামাত
| জামাতের নাম | লিখিত পরীক্ষার কিতাব |
| দাওরায়ে হাদীস | মেশকাত ১ম খণ্ড এবং হেদায়া ৩য়/৪র্থ |
| দুয়াম-উলা/কামেলাইন | তারজুমায়ে কোরআন এবং হেদায়া ২য় |
| সিউম | তারজুমায়ে কোরআন/শরহে জামী (ইসম) শরহে বেকায়াহ |
| ছাহারুম | তারজুমায়ে কোরআন/ শরহে জামী (ফেল) উসুলুশ শাসী |
| পাঞ্জুম | কাফিয়া ও কুদুরী |
| শাশুম | হেদায়াতুন্নাহু ও নূরুল ঈযাহ |
মৌখিক পরীক্ষার কিতাবাদি ও জামাত
| জামাতের নাম | মৌখিক পরীক্ষার কিতাব |
| হাফতুম | মেধা যাচাই, নাহবেমীর ও শরহে মিআতু আমেল, পঞ্জেগঞ্জ, বাংলা, অংক, ইংরেজী ৬ষ্ঠ |
| হাশ্তুম | মেধা যাচাই, মিযান-মুনশাঈব, বাকুরাতুল আদাব বাংলা, অংক, ইংরেজী ৫ম |
| নুহুম | মেধা যাচাই, তায়সীরুল মুবতাদি, বেহশতী জেওর ১ম, বাংলা, অংক, ইংরেজী ৪র্থ |
| দাহুম | মেধা যাচাই, কুরআনের বিশুদ্ধ নাজেরা, উর্দু নয়া
কায়েদা, বাংলা, অংক, ইংরেজী ৩য় |
| মুতাফাররিকাহ | মেধা যাচাই, হিফয যাচাই এবং বাংলা, অংক, ইংরেজী ৩য় |
উল্লেখ্য: সকল তাখাসসুসাত/উচ্চতর গবেষণা বিভাগ-এর শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ তত্ত্বাবধায়কের তত্ত্বাবধানে লিখিত ও মৌখিক ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই ভর্তি নিশ্চিত হবে।
উপসংহার:
তালিবুল ইলমদের প্রতি কল্যাণকামিতা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুস্পষ্ট নির্দেশ।
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: إِنَّ رِجَالًا مِنْ أَهْلِ الْمَشْرِقِ يَأْتُونَكُمْ يَتَفَقَّهُونَ فِي الدِّينِ، فَإِذَا أَتَوْكُمْ فَاسْتَوْصُوا بِهِمْ خَيْرًا).رواه الترمذي(
সেই নববী হিদায়াতের আলোকে শিক্ষা প্রদান, তরবিয়ত, শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভর্তি প্রক্রিয়াও কল্যাণকামিতার একটি মৌলিক অংশ।
এই ভর্তি নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো-শিক্ষার্থীর ইন্তেদাদ, প্রস্তুতি ও উপযোগিতা বিবেচনায় নিয়ে সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছভাবে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা, যাতে শিক্ষার্থী নিজের জামাতের পাঠ্যক্রম সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারে এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। এতে শিক্ষার্থী যেমন উপকৃত হয়, তেমনি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও তরবিয়তের মানও সংরক্ষিত থাকে।
আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া এই নীতিমালার মাধ্যমে তালিবুল ইলমদের প্রতি দায়িত্বশীলতা ও কল্যাণকামিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে ইনশাআল্লাহ তা ছাত্র, প্রতিষ্ঠান এবং সর্বোপরি দ্বীনের খেদমতে দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ বয়ে আনবে।




