দেশব্যাপী করোনা মহামারির ভয়াবহতা! আল্লামা মুফতী আব্দুল হালীম বোখারী (হাফিজাহুল্লাহ)-এর বিশেষ পরামর্শ

দেশ ব্যাপী করোনা মহামারির ভয়াবহতা! 

জামিয়া পটিয়ার মুহতামিম ও শায়খুল হাদীস আল্লামা মুফতী আব্দুল হালীম বোখারী (হাফিজাহুল্লাহ)-এর বিশেষ পরামর্শ

সম্মানিত মুসলিম ভাই–বোনেরা!

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ!

বিশেষ বক্তব্য এই যে, বর্তমানে দেশে করোনা পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে যে, এর কারণে দেশের সমস্ত মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় আছে। সরকারি-বেসরকারি নেতৃবৃন্দ অনেক উপায় অবলম্বন করছেন। কিন্তু করোনা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্থায় করোনা বৃদ্ধির রহস্য উদ্ঘাটন করা জরুরি।

পবিত্র কুরআন-হাদীস নিয়ে গবেষণা করে দেখা যায় যে, এই করোনা ভাইরাস আল্লাহ পাকের অসন্তুষের কারণে একটি মারাত্মক শাস্তি হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে। যে রকম হযরত নূহ আ.-এর জাতির উপর ব্যাপক আযাব নাযিল হয়েছিল। এই আযাব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কুরআন-হাদীসের আলোকে যা কারণীয় তা নিম্নরূপ-

এক. আমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ পাপের জন্য আল্লাহর দরবারে লজ্জিত হয়ে সমস্ত পাপ কাজ বর্জন করি এবং আল্লাহ পাকের দরবারে তাওবা করে ভবিষ্যতে পাপের কাজ না করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই এবং আল্লাহর দরবারে ক্ষমা পার্থনা করি।

দুই. পতিতা ও বেশ্যা মহিলারা অনতিবিলম্বে তাদের ব্যভিচার ও পতিতাবৃত্তি বন্ধ করে দেই। কারণ, হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, যেনা-ব্যভিচার দ্বারা মহামারি প্রসার লাভ করে।

তিন. সমস্ত মহিলা শরীয়ত প্রদর্শিত পর্দা অবলম্বন করে ঘরে-বাইরে চলে-ফেরা করি।

চার. নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে বেপর্দা উলঙ্গ মেলা-মেশা বন্ধ করে দেই।

পাঁচ. ঘরের সোকেজ কিংবা বারান্দায় অথবা আঙ্গিনায় মূর্তি থাকলে অতিসত্তর তা সরিয়ে ফেলি। কারণ, এটা মূর্তি পূজার অন্তর্ভুক্ত এবং অন্যতম শিরক।

ছয়. দেশীয় সূদী ব্যাংকসমূহের মলিকগণ সূদ ভিত্তিক লেনদেন বাদ দিয়ে অতিসত্তর ইসলামী ব্যাংকিং চালু করি। কারণ, হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, জেনে-শুনে সিকি পরিমাণ সূদ খাওয়া ৩৬ বার যেনা-ব্যভিচার করার সমতুল্য।

সাত. আমরা মু’মিন হিসেবে অতিসত্তর ঘুষের লেনদেন বন্ধ করে দেই। কারণ হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, ঘুষদাতা, ঘুষগ্রহিতা এবং ঘুষের দালাল; সকলের উপর আল্লাহ পাকের লানত ও অভিশাপ নাযিল হয়।

অতএব, আমরা যদি উপরোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি, তাহলে আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, অনতিবিলম্বে করোনা ভাইরাসের এই মহামারি বন্ধ হয়ে যাবে। তখন করোনা ভ্যাকসিনের পিছনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে না এবং দেশে আর্থিক সঙ্কটও নিরসন হবে। আর একটি মুসলিম রাষ্ট্রকে ভ্যাকসিনের জন্য অমুসলিম রাষ্ট্রসমূহের মুখাপেক্ষি হতে হবে না।

বস্তুতঃ আমি দেশের ভয়াবহতা লক্ষ্য করে কথাগুলো সুপরামর্শ হিসেবে পেশ করলাম। আল্লাহ পাক আমাদেরকে আমল করার তাওফীক দান করুন, আমীন।

আরজগুজার

আল্লামা মুফতী আব্দুল হালীম বোখারী

মুহতামিম ও শায়খুল হাদীস

আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Skype
WhatsApp
Email
Print