তাহফিজুল কোরআন সংস্থার সংবিধান

বাংলাদেশ হিফজ প্রতিষ্ঠান সংবিধান

دستورالمعاهد لتحفيظ القران الكريم بنغلاديش

সম্পাদনায়

আল্লামা রহমাতুল্লাহ কাউসার নিজামী

প্রধান কার্যালয়

আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম

বাংলাদেশ হিফজ প্রতিষ্ঠান সংবিধান

ম পরিচ্ছেদ:  সংবিধানের নামকরণ ও প্রতিষ্ঠা সন

১নং অনুচ্ছেদ : সংবিধানের নামকরণ

বাংলাদেশ তাহফিজুল কোরআন সংস্থাভূক্ত সকল হিফজ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার লক্ষ্যে সংস্থা কর্তৃক ঘোষিত অত্র গঠনতন্তের নাম হবে “বাংলাদেশ হিফজ প্রতিষ্ঠান সংবিধান”। আরবীতে

دستورالمعاهد لتحفيظ القران الكريم بنغلاديش

 ‘দস্তুরুল মাআ’হিদ লি-তাহফীজিল কোরআনিল কারীম বাংলাদেশ’ বলা হবে।

২নং অনুচ্ছেদ: বিধিবিধান কার্যকরী করণের তারিখ

”বাংলাদেশ  তাহফীজুল কোরআন সংস্থা”এর ০৪/০৭/১৪২৪ হিঃ মোতাবেক ০১/০৯/২০০৩ ইং তারিখ আনুষ্ঠানিক মজলিসে শোরার সাধারণ অধিবেশনে অত্র সংবিধান অনুমোদন লাভ করার পর থেকে এর কার্যকরী করণের তারিখ গন্য  হবে। সাথে সাথে সংস্থার পূর্বের যাবতীয় অসামঞ্জস্য বিধি বিধান রহিত গন্য হবে।

৩নং অনুচ্ছেদ: কার্যকরী করণ

এই সংবিধানের অনুসরণ সংস্থাভূক্ত সকল হিফজ প্রতিষ্ঠানের জন্য আবশ্যকীয় হবে।

২য় পরিচ্ছেদ: প্রতিষ্ঠান সমূহের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, কর্তব্য ও চিন্তাধারা

১নং অনুচ্ছেদ: হিফজ প্রতিষ্ঠানসমূহের লক্ষ ও উদ্দেশ্য

ক. কচি কোমল প্রাণে পবিত্র আল-কোরআনের পবিত্রময় শব্দগুলো গেঁথে দেয়া।

খ. ইলমে তাজবীদ ও ক্বেরাত, ফিকহ ও আকাঈদ এবং আদইয়ায়ে মাসনূনাসহ অপরিহার্য বিষয়গুলো শিক্ষা দান করা।

গ. মুসলিম সন্তানদের কুরআন সংরক্ষণের জন্য হিফজের প্রতি গভীর উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করা।

ঘ. সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্র কুরআনের আলোকরশ্মি পৌঁছে দেয়া।

ঙ. পাক কুরআনের শিক্ষাসম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি ইসলামী সুখী সমাজ গড়ে তোলা।

জ. ছাত্রদেরকে পূর্ণাঙ্গ সুন্নাতের অনুসারী রূপে আদর্শ মানুষ সৃষ্টি করা।

ঝ. শিক্ষার্থীদেরকে আকারের দেওবন্দের অনুরূপ প্রতিভা ও চরিত্রের অধিকারী করে সমাজে আদর্শ ব্যক্তিরূপে প্রতিষ্ঠিত করা।

২নং অনুচ্ছেদ: প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্ব ও কর্তব্য

(ক) প্রতিষ্ঠানসমূহের  লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সার্বিক প্রচেষ্টা চালানো।

(খ)  দীনের হেফাজতের উদ্দেশ্যে বিশুদ্ধ আক্বীদা-বিশ্বাস ও  ইসলামী চিন্তাধারার ব্যাপক প্রচার-প্রসারের সাথে সাথে বিভিন্ন উপায়ে বাতিল মতবাদ ও যাবতীয় কু-সংস্কারের যথাসাধ্য মোকাবেলা করা।

(গ)  সমাজ সেবমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মুসলিম জনসাধারণকে ইহুদি-খৃষ্টানদের মিশনারী তৎপরতার কবল থেকে রক্ষা করা।

(ঘ)  বাতিল সম্প্রদায়গুলোর অপ-প্রচার রোধকল্পে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, বিশেষতঃ আকাবেরে দেওবন্দের লিখিত পুস্তক-পুস্তিকার ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করা এবং বিভিন্ন স্থানে দ্বীনি পাঠাগার চালু করার চেষ্টা করা।

(ঙ)     সংস্থা কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচী, নিয়ম-নীতি, তরীকে তা’লীম ও মারকাজী পরীক্ষার কর্মসূচী অনুসরণ ও কার্যকর করা।

৩নং অনুচ্ছেদ: প্রতিষ্টানসমূহের আদর্শ ও চিন্তাধারা

ক. সংস্থাভূক্ত সকল প্রতিষ্ঠানের আদর্শ ও চিন্তাধারা হবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আদর্শ ও চিন্তধারাই।

খ. প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে মূলতঃ দারুল উলুম দেওবন্দই হবে অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়।

গ. সকল ছাত্র-শিক্ষক আচরণে, লেবাস-পোষাকে এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমে সলফে সালেহীনের অনুসরণ করা।

ঘ. প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, শিক্ষকবৃন্দ, কর্মচারীগণ এবং সকল ছাত্র উপরোল্লিখিত লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও আদর্শের অনুসারী হতে হবে।

৩য় পরিচ্ছেদ: প্রতিষ্ঠান পরিচালনা

১নং অনুচ্ছেদ: প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিচালনা ব্যবস্থা

ক. সংস্থাভূক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিচালনার জন্য দু’টি পরিষদ থাকবে (১) শোরা পরিষদ (২) আমেলা পরিষদ।

খ. যে সব হিফজ প্রতিষ্ঠান সাধারণ মাদ্রাসার অন্তর্ভূক্ত সে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন কোন পরিষদের প্রয়োজন নেই; বরং মাদ্রাসার বিভিন্ন পরিষদই এর জন্য যথেষ্ট। তবে হিফজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার বিশেষ তদারকির জন্য একটি সাব কমিটি গঠন করা অপরিহার্য।

শোরা পরিষদ

২নং অনুচ্ছেদ: শোরা পরিষদ এর গঠন পদ্ধতি

ক. সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের মনোনয়ন ও সুপারিশে সংস্থার সভাপতি সংস্থাভূক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের শোরা পরিষদের অনুমোদন দান করবেন। সংস্থার সভাপতি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও হিতাকাঙ্খীদের সাথে পরামর্শ ও বিবেচনা করে শোরার সভাপতি মনোনিত করবেন। সভাপতির অনুপস্থিতিতে সহ-সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক অনুমোদন দান করতে পারবেন।

খ. প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিকটবর্তী হিফজখানাসমূহের পরিচালকগণ এবং স্থানীয় সুন্নতের পাবন্দ ও অত্র প্রতিষ্ঠানের হিতাকাঙ্খি হাফেজ ওলামাদের মধ্য থেকে শোরার সদস্য মনোনয়ন করা হবে।

গ. শোরা পরিষদ একটি স্থায়ী পরিষদ হিসেবে পরিগণিত হবে। তবে সংস্থার কর্মকর্তাগণ প্রয়োজনে এর পুনর্গঠন করতে পারবেন। এতে কোন কারণ প্রকাশ্য বর্ণনা করা জরুরী নয়।

ঘ. শোরা পরিষদের সদস্য সংখ্যা প্রতিষ্ঠানের মান অনুসারে কমপক্ষে ৭ জন ও অনুর্ধ্ব ১১ জন হতে পারবে।

ঙ. শোরা কমিটি কোন জটিল বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারলে সংস্থা কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হবেন।

জ. প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শোরার সম্পাদক থাকবেন।

ঝ. প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে অত্র গঠনতন্ত্রের আলোকে শোরা ও আমেলা গঠন করে উভয়ের একটি তালিকা সংস্থার কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে।

৩নং অনুচ্ছেদ: মজলিসে শোরার অধিবেশন

ক. বছরে অন্তত একবার শোরার সাধারণ অধিবেশন আহবান করতে হবে। জরুরি অধিবেশন প্রয়োজনানুসারে আহবান করা যাবে।

খ. পরিচালক শোরার সম্পাদক হিসেবে সাধারণ ও জরুরি অধিবেশন আহবান করবেন।

গ. সাধারণ অধিবেশনের দাওয়াতনামা অন্যূন এক সাপ্তাহ পূর্বে এবং জরুরি অধিবেশনের দাওয়াতনামা অন্যূন ২৪ ঘন্টা পৌঁছাতে হবে।

ঘ. দাওয়াতনামায় বিস্তারিত আলোচ্যবিষয় লিপিবদ্ধ থাকতে হবে।

ঙ. জরুরি অধিবেশনের ক্ষেত্রেও একাধিক আলোচ্য বিষয় থাকতে পারবে।

চ. শোরার অধিবেশনের যাবতীয় সিদ্ধান্ত পৃথক রেজিষ্টারে ক্রমিক নম্বর সহকারে লিপিবদ্ধ করতে হবে।

ছ. শোরার প্রতিটি অধিবেশনে বিগত অধিবেশনের সিদ্ধান্তসমূহ পাঠ করে অনুমোদন লাভ করতে হবে।

জ. অধিবেশনে যে কোন সিদ্ধান্ত সকলের রায় শোনার পর অধিবেশনের সভাপতির রায়ে গৃহীত হবে। উপস্থিত অধিকাংশ সদস্যের রায়ের ভিত্তিতে সভাপতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। যদি কোন বিষয়ে দু’পক্ষের রায় সমান হয় তবে সভাপতি নিজ ক্ষমতায় কোন একটিকে গ্রহণ করবেন।

ঝ. শোরার সভাপতি সাধারণ ও জরুরি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে উপস্থিত সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে সভাপতি মনোনীত করা যাবে।

ঞ. শোরার মোট সদস্যের দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতে কোরাম পরিপূর্ণ গণ্য হবে।

ট. শোরার সাধারণ অধিবেশনে তালীম, তরবিয়ত, হিসাব-নিকাশ, প্রশাসন প্রভৃতি আলোচ্য বিষয় হিসেবে থাকা অপরিহার্য।

ঠ. শোরার রেজিষ্টারি যেখানে অধিবেশনের সিদ্ধান্তসমূহ লিপিবদ্ধ করা হবে, তথায় উপস্থিত সদস্যের স্বাক্ষর থাকা জরুরি হবে।

ড. সিদ্ধান্তসমূহের শেষে অধিবেশনের সভাপতির স্বাক্ষর থাকা অপরিহার্য।

৪নং অনুচ্ছেদ:মজলিসে শোরার ক্ষমতা ও  দায়িত্ব

ক. প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে  মজলিসে শোরা সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী গণ্য হবে।

খ. দস্তুরের আলোকে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন ও কর্মসূচী প্রণয়ন করতে হবে।

গ. প্রতিষ্ঠানের পূর্বোল্লিখিত আদর্শ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়িত করবে এবং প্রয়োজনীয় বিভাগ প্রবর্তন, উপ-পরিষদ গঠন ও এগুলির দায়িত্ব সীমা নির্ধারণ করবে।

ঘ. অধীনস্ত মজলিসে আমেলা বা উপ-পরিষদসমূহের সুপারিশমালা পর্যালোচনা করে তা অনুমোদন বা প্রত্যাখান করতে পারবে।

ঙ. প্রতিষ্ঠানের স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি করবে।

চ. বার্ষিক আয়-ব্যয়ের বাজেট ও হিসাব অনুমোদন করবে এবং হিসাবের জন্য অডিটর নিয়োগ করবে।

ছ. এদারার উন্নয়নকল্পে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

জ. প্রয়োজনে পরিচালক সাহেবকে যে কোন ব্যপারে ক্ষমতা অর্পণ করবে।

ঝ. প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যংক হিসাব খোলার সিদ্ধান্ত নিবে এবং তার পরিচালক নিয়োগ করবে।

ঞ. মজলিসে আমেলা গঠন করবে তবে সংস্থার অনুমোদন লাভ করতে হবে।

মজলিসে আমেলা (কার্যকরী কমিটি)

৫নং অনুচ্ছেদ: মজলিসে আমেলার গঠন পদ্ধতি

ক. মজলিসে শোরাই আমেলা গঠন করবে। তবে সংস্থার অনুমোদন নিতে হবে।

খ. মজলিসে আমেলার সকল সদস্য শোরার সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনীত করা হবে।

গ. মজলিসে অমেলার সদস্য সংখ্যা অন্যূন ৫জন ও অনুর্ধ্ব ৭ জন হবে।

ঘ. পরিচালক পদাধিকারবলে আমেলার সম্পাদক থাকবেন। অধিবেশন চলাকালে একজনকে সভাপতি করে নিতে হবে।

ঙ. মজলিসে আমেলা স্থায়ী পরিষদ হিসেবে গণ্য হবে, তবে শোরা বিশেষ পরিস্থিতিতে তার পূনর্গঠন করতে পারবে।

৬নং অনুচ্ছেদ : মজলিসে আমেলার দায়িত্ব ও ক্ষমতা

ক. মজলিসে শোরা কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়িত করবে।

খ. ধর্মীয় শিক্ষার আদর্শ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকল্পে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতঃ মজলিসে শোরার অধিবেশনে বিবেচনার জন্য পেশ করবে।

গ. সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশাবলী বাস্তবায়নের রূপরেখা শোরার বিবেচনার জন্য পেশ করবে এবং অনুমোদনের পর নির্দিষ্ট রূপরেখা বাস্তবায়িত করবে।

ঘ. মজলিসে শোরার অনুমোদন সাপেক্ষে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, অপসারণ, পদোন্নতি বা পদাবনতি করতে পারবে। কিন্তু আমেলা নিম্ন বেতনভোগী কর্মচারিদেরকে শোরা ছাড়াই নিয়োগ-বরখাস্ত করতে পারবে।

ঙ. বিশেষ প্রয়োজনে শোরা অধিবেশনে অনুমোদিত বাজেট বর্হিভূত ব্যয় অনুমোদন করতে পারবে। তবে শোরার পরবর্তী অধিবেশনে তার অনুমোদন লাভ করতে পারবে।

চ. মজলিসে শোরায় পেশ করার জন্য বাজেট প্রণয়ন করবে।

ছ. শোরা অডিটর নিয়োগ না করে থাকলে আমেলা অডিটর নিয়োগ করতে পারবে।

জ. প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন ও বিভাগীয় কার্যাবলী তদারকি করবে এবং শোরায় রিপোর্ট পেশ করবে।

ঝ. শিক্ষকদের আবেদনসমূহ বিবেচনা করে শোরার নিকট সুপারিশ করবে।

ঞ. প্রয়োজনে পরিচালক সাহেবকে যে কোন ব্যাপারে ক্ষমতা অর্পণ করতে পারবে।

ট. প্রয়োজনে ব্যংক হিসাব খোলার সিদ্ধান্ত ও অপারেটর মনোনীত করতে পারবে, তবে শোরার সিদ্ধান্তের পরিপন্থী না হওয়া জরুরী।

৭নং অনুচ্ছেদ: আমেলার অধিবেশন

ক. মজলিসে আমেলার অধিবেশন প্রয়োজনে বারংবার হতে পারবে। তবে কমপক্ষে বছরে তিনবার হওয়া জরুরি।

খ. মজলিসে আমেলার সাধারণ অধিবেশনে তিনদিনের নোটিশ ও জরুরী সভা ২৪ ঘন্টার নোটিশে আহবান করবেন।

গ. পরিচালক সম্পাদক হিসেবে আমেলা অধিবেশন আহবান করবেন।

ঘ. আমেলার সদস্যদের অধিকাংশের উপস্থিতিতে কোরাম পরিপূর্ণ গণ্য হবে।

 

৮নং অনুচ্ছেদ: সদস্যপদ বাতিল ও শনূপদ পূরণ

ক. কোন সদস্যের ইন্তেকাল হলে।

খ. কোন সদস্য শোরা বা আমেলার তিনটি অধিবেশনে এক নাগাদ অনুপস্থিত থাকলে এবং শোরো কর্তৃক অত্র সদস্যের পদকে শূন্য বলে ঘোষণা করা হলে।

গ. কোন সদস্য পদত্যাগ করলে।

ঘ. কোন সদস্য প্রতিষ্ঠানের আদর্শ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হলে মজলিসে শোরা তারঁ সদস্যপদ বাতিল ঘোষণা করে মনোনয়নের মাধ্যমে শূন্যপদ পূরণ করবে। তবে সংস্থার অনুমোদন জরুরি হবে।

 

পরিচালক

৯ নং অনুচ্ছেদ : পরিচালকের যোগ্যতা

ক. পরিচালক দক্ষ হাফেজ, মুত্তকী, আমানতদার, চিন্তাশীল, ত্যাগী, প্রশাসনিক ক্ষমতার অধিকারী এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে। উপরিউক্ত গুণের সাথে সাথে আলেম হওয়াটাই ভাল।

খ. প্রতিষ্ঠানের আদর্শ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে ঐক্যমত পোষণকারী হওয়া জরুরি।

গ. পরিচালক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হওয়া অপরিহার্য।

১০ নং অনুচ্ছেদ: পরিচালকের দায়িত্ব ও অধিকার

ক. পরিচালক প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যাবলী প্রত্যক্ষ পরিচালনা, শৃঙ্খলা বিধান ও নিয়ন্ত্রণ করবেন।

খ. মজলিসে শুরা এবং আলেমরা সর্বপ্রকার অধিবেশন আহবান করবেন।

গ. প্রতিষ্ঠানের সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দস্তখত, রসিদ বহিতে দস্তখত এবং ভাউচার অনুমোদন করবেন।

ঘ. অধিবেশনসমূহের কার্যবিবরণী লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষণ করবেন।

ঙ. প্রয়োজনে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিকট থেকে কৈফিয়ত তলব ও তাদেরকে সতর্ক করবেন। প্রয়োজনে তাদেরকে সাময়িক অব্যহতি দান করতে পারবেন।

চ. নৈমিত্তিক খরচের জন্য শোরা-আমেলা কর্তৃক অনুমোদিত পরিমাণ অর্থ তার কাছে রাখতে পারবে।

ছ. প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা-রক্ষা এবং লেখাপড়ার পরিবেশ সুষ্ঠ রাখার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানকে দলীয় রাজনৈতিক কার্যকালাপ থেকে মুক্ত রাখবেন। অনুরূপভাবে ছাত্রদেরকে দলীয় রাজনৈতিক সংগঠন তথা রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন থেকে মুক্ত রাখবেন।

জ. প্রয়োজনে তিনি প্রতিষ্ঠানের কোন কাজের দায়িত্ব কোন শিক্ষকের উপর অর্পণ করতে পারবেন।

ঝ. আয়-ব্যয়ের অডিট করার পর অনুমোদনের জন্য শোরার নিকট পেশ করবেন।

ঞ. মজলিসে আমেলার অনুমোদন সাপেক্ষে নিম্ন বেতনভোগী কর্মচারীদের নিয়োগ-বরখাস্ত করতে পারবেন।

ট. প্রতিষ্ঠানের আদর্শ ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের বরখেলাফ আচরণকারী ছাত্রকে বহিস্কারযোগ্য মনে হলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বহিষ্কার করতে পারবেন।

ঠ. প্রতিষ্ঠানের ছুটি ঘোষণা, ছাত্রদের ভর্তি মঞ্জুরী, খোরাকী মঞ্জুরী, সনদ ও অনুমতিপত্র প্রদান এবং শিক্ষকদের বেতনের ব্যবস্থা করবেন।

ড. আমেলার পরামর্শক্রমে শোরা ও সংস্থার অনুমোদনসাপেক্ষে প্রয়োজনবোধে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ বা তাদের বরখাস্ত করতে পারবেন।

ঢ. শিক্ষক-কর্মচারীদের ছুটি মঞ্জুরী করবেন।

ণ. অর্থ বছরের শেষে প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক রিপোর্ট তৈরী করবেন।

ত. শোরা, আমেলা ও সংস্থার নিকট জবাবদেহ থাকবেন।

১১ নং অনুচ্ছেদ: সহকারী পরিচালক

ক. সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব ও ক্ষমতা পরিচালক যা অর্পণ করবেন তাই হবে।

খ. পরিচালকের দীর্ঘকাল অবর্তমানে সহকারী পরিচালক প্রধান পরিচালকের দায়িত্ব ও ক্ষমতার অধিকারী হবে। তবে কোন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ-অপসারণ করতে পারবেন না।

গ. পরিচালক উপস্থিত থাকাকালে বা অল্পসময়ের জন্য প্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকাকালে সহকারী পরিচালক প্রধান  পরিচালক কর্তৃক প্রাপ্ত দায়িত্ব ও ক্ষমতা ছাড়া অন্য কোন ব্যাপারে ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন না।

ঘ. যদি শুরা বা আমেলা পরিচালকের দীর্ঘকালীন অনুপস্থিতিকালে সহকারী পরিচালক ছাড়া অন্য কাউকে দায়িত্ব অর্পণ করে তবে তিনিই কার্য পরিচালনা করবেন।

ঙ. সহকারী পরিচালক শোরা ও আমেলার নিকট জবাবদেহ থাকবেন।

৪র্থ পরিচ্ছেদ: শিক্ষক ও কর্মচারী

১নং অনুচ্ছেদ: শিক্ষক-কর্মচারীর দায়িত্ব

ক. হিফজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীগণ প্রতিষ্ঠানের আদর্শ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের অনুসারী এবং তা বাস্তবায়নে তৎপর থাকবেন।

খ. তারা মুত্তকী, সুন্নাতের পাবন্দ ও আদর্শ চরিত্রের অধিকারী হওয়া অপরিহার্য।

গ. তারা বিশেষতঃ আকাবেরে দেওবন্দের অনুসারী হওয়া জরুরী এবং তাদেরই চিন্তাধারা ও আদর্শ ছাড়া অন্য সব চিন্তাধারা ও আদর্শ বর্জন করা অপরিহার্য।

ঘ. ছাত্রদেরকে আদর্শ মানুষ, হিফজে দক্ষ এবং আমল আখলাক উন্নতক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিটি শিক্ষককে সজাগ ও তৎপর থাকতে হবে।

ঙ. তারা নিজে দলীয় সক্রিয় রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকবেন এবং ছাত্রদেরকে দলীয় রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখবেন।

চ. প্রতিদিন ছাত্রদের হাজিরা করা শিক্ষকদের জন্য জরুরী।

ছ. সব নিযুক্ত শিক্ষককে ৬ মাস পর্যন্ত অস্থায়ী গণ্য করা হবে।

জ. শিক্ষক-কর্মচারীগণ শোরা, আমেলা পরিষদ, পরিচালকের নিকট জবাবদেহ থাকবেন।

২নং অনুচ্ছেদ:শিক্ষক-কর্মচারীদের ছুটি ইত্যাদি

ক. প্রতিটি শিক্ষক-কর্মচারী প্রতিমাসে দুই দিন নৈমিত্তিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন। যদি কোন শিক্ষক প্রতিমাসে উক্ত ছুটি ভোগ না করে থাকেন তবে বছরের শেষের দিকে প্রয়োজনে এবং হিফজখানার শিক্ষাক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতি না হওয়া সাপেক্ষে পরামর্শের মাধ্যমে এক সাথে জমা থাকা ছুটি ভোগ করতে পারবেন। যেহেতু উক্ত হিসাব মতে বছরে ২২ দিন শিক্ষমের নৈমিত্তিক ছুটি হয় সুতরাং পরিচালক সাহেব কোন শিক্ষককে বিশেষ প্রয়োজনে ছুটি জমা হওয়ার পূর্বে অগ্রিম ছুটি মঞ্জুর করতে পারবেন। তবে নবনিযুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এ সুযোগ পাবেন না।

খ. নৈমিত্তিক ছুটি সর্বাবস্থায় পরিচালকের অনুমোদনক্রমেই ভোগ করা যাবে।

গ. নবনিযুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীও মাসিক দু’দিন ছুটি ভোগ করতে পারবেন।

ঘ. নবনিযুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীগণ রোগের কারণে বছরে সর্বমোট একমাস সবেতনে ছুটি পাবেন। তবে পরিচালক সাহেবের নিকট একথা প্রমাণিত হতে হবে যে তারা রোগজনিত কারণে শিক্ষকতা ও প্রতিষ্ঠানের খেদমতে সত্যিকারেই অপারগ হয়ে পড়েছেন। যদি রোগের মেয়াদ আরও দীর্ঘ হয় তবে তারা বিনাবেতনে ছুটি পাবেন।

ঙ. কোন শিক্ষক-কর্মচারী পরিচালকের অনুমতি ব্যতিরেখে স্বল্পসময়ের জন্যও দায়িত্ব পালনে বিরত বা অনুপস্থিত থাকে পারবে না। অন্যথায় পরিচালক তার বেতন কর্তন করতে পারবেন।

চ. যেহেতু পরিচালক সর্বক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যস্ত থাকেন সুতরাং শোরার বা আমেলার অনুমোদনসাপেক্ষে তিনি প্রয়োজনীয় সময়ের ছুটি ভোগ করতে পারবেন।

ছ. ছুটি অনুমোদন ছাড়া কোন শিক্ষক-কর্মচারী অনুপস্থিত থাকলে পরিচালক তার বেতন কর্তন করতে পারবেন। যদি কেউ নির্দিষ্ট সময়ের ছুটি অনুমোদিত হওয়ার পর বিশেষ কারণে ছুটি শেষ হওয়ার সাথে সাথে হিফজখানায় উপস্থিত হতে পারেন নি, তবে অবিলম্বে পরিচালকের নিকট অননুমোদিত অনুপস্থিতির ছুটি মঞ্জুরীর জন্য দরখাস্ত করবেন। পরিচালক বিষয়টি বিবেচনা করে ছুটি মঞ্জুর করবেন। অন্যথায় বেতন কর্তন করা হবে।

জ. যে কোন বন্ধের সময় ও তৎপর হিফজখানা খোলার তারিখে কোন শিক্ষক-কর্মচারী হাজির না থাকলে তিনি  বন্ধের বেতন পাবেন না। আর একদিকে অনুপস্থিত থাকলে বন্ধের অর্ধেক বেতন পাবেন না। অনুরূপ জুমাবারের বেতন তারাই পাবেন যারা বৃহস্পতি ও শনিবার উপস্থিত থাকবেন। আর এ দুদিনের কোন একদিন অনুপস্থিত থাকলে জুমাবার বেতন অর্ধেক পাবেন।

৩নং অনুচ্ছেদ: শিক্ষক-কর্মচারীর অব্যহতি

ক. কোন শিক্ষক-কর্মচারী প্রতিষ্ঠানের খেদমত ত্যাগের ইচ্ছা করলে তিনি অন্যূন একমাস পূর্বে পরিচালককে লিখিতভাবে অবগত করবেন। অন্যথায় তার পক্ষে সংস্থাভুক্ত কোন হিফজখানার খেদমত গ্রহণ অবৈধ হবে। তবে পরিচালক আকস্মিক অব্যাহতি অনুমোদন করলে তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকবে না।

খ. যদি কোন শিক্ষক-কর্মচারীকে হিফজখানার খেদমত থেকে আইনানুগ পন্থায় অব্যহতি দেয়া হয়, তবে অব্যহতির বিষয়  অবগত করার সময় থেকে এক মাস পর্যন্ত তিনি হেফজখানার খেদমতে বহাল থাকবেন। তবে তিনি অবগত হওয়ার পর স্বেচ্চায় সাথে সাথে হিফজখানা ত্যাগিচ্ছু হলে এবং পরিচালক এতে সম্মতি দিলে তা পারবেন।

যে কোন শিক্ষক-কর্মচারীকে হিফজখানার খেদমত থেকে নিম্নলিখিত অজুহাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অব্যহতি দান করতে পারবেন।

১. প্রতিষ্ঠানের আদর্শ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী আচরণ।

২. আকাবেরে দেওবন্দের চিন্তাধারা ও আদর্শের বিরুদ্ধাচারণ।

৩. প্রতিষ্ঠানের স্বার্থবিরুধী ধ্বংসাত্মক কার্যকালাপে জড়িত হওয়া।

৪. প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের আদেশ-নিষেধ লঙ্ঘন করা।

৫. মারাত্মক চরিত্রহীনতা।

৬. নিজ দায়িত্বে অব্যাহত অবহেলা প্রদর্শন।

৭. ছুটি অনুমোদন ছাড়া একনাগাদ ১৫ দিন অনুপস্থিত থাকা।

৮. স্বাস্থগত কারণে দায়িত্বপালনে অপারগতা।

গ. প্রথম সাতটি ক্ষেত্রে যে কোন শিক্ষক-কর্মচারীকে সতর্ক করার পরও যদি কেউ নিজেকে সংশোধন  না করেন, তবে তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হবে। অতঃপর কারণদর্শানো যদি সন্তোষজনক না হয় তবে শরীয়ত সম্মত উপায়ে এ সকল দোষ প্রমাণিত হলে তাকে আমেলা অব্যহতি দানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। প্রকাশ থাকে যে, অব্যহতির ক্ষেত্রে সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ অপরিহার্য এবং অব্যহতি শুরার পরবর্তী অধিবেশনে অনুমোদন নিতে হবে।

৫ম পরিচ্ছেদ: একাডেমিক বিধান

১নং অনুচ্ছেদ: ছাত্রদের ভর্তি

ক. নির্দিষ্ট ভর্তিফরমে ছাত্রদেরকে ভর্তি করতে হবে। নতুন ছাত্রদের ভর্তি ফরমে ছাত্রদের বিস্তারিত ঠিকানা, অভিভাবক নির্ধারণ, বয়স, পুর্ববতী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঐ প্রতিষ্ঠানের অনুমতিপত্রের বিষয়, বিগত বছর পঠিত পাঠ এর উল্লেখ, ভর্তি পরিক্ষার ফলাফল, নিয়ম-কানুন মানার প্রতিশ্রুতি ইত্যাদির জন্য নির্দিষ্ট স্থান, নাজেমে মতবখ, শিক্ষাপরিচালক ও পরিচালক এর মন্তব্য বা নির্দেশের স্থান এবং ছাত্রদের স্বাক্ষরের স্থান থাকতে হবে।

খ. নতুন ছাত্রকে পূর্ববতী প্রতিষ্ঠানের অনুমতি পত্র ছাড়া ভর্তি করা সম্পূর্ণ অবৈধ হবে। ভর্তি করলে পূর্ববতী প্রতিষ্ঠান সংস্থার কার্যালয়ে বিচারের প্রর্থনা করতে পারবে।

গ. ভর্তির সময় ছাত্রদেরকে বিশেষভাবে যাচাই করতে হবে এবং হিফজখানার আদর্শ, লক্ষ্য-উদ্দেশ্যসমূহ এবং প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় নিয়ম-কানুন মেনে চলার জন্য পৃথক ফরমে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করতে হবে।

ঘ. ভর্তির সময় ভর্তি ফি সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য চার্জ বা চাঁদা নেয়া যাবে। তবে সকল ছাত্রের শিক্ষা বিনাবেতনে দেয়া হবে।

ঙ. অর্থ: হিফজ পড়ার জন্য তারাই পদক্ষেপ নিতে পারবে যারা হবে প্রয়োজনীয় অর্থের অধিকারী এবং সামর্থবান। তিক্ত অভিজ্ঞতার পর দেখা গেছে উপরোক্ত শর্তগুলি যথাযথ পাওয়া যাওয়ার পরও ছাত্রের প্রয়োজনীয় অসবাবসমূহ, দৈনন্দিন অঢেল খরচাদি বহন করতে না পারায় অনেক সময় তার সাফল্যের পথে বিগ্ন সৃষ্টি হয়।

চ. বয়স: প্রাথমিক ছাত্রের বয়স ১০ বৎসরের গন্ডিতে থাকতে হবে।

ছ. স্বাস্থ্য: ছাত্র সুঠাম স্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে। যেন হিফজখানার পাঠ্য ও নিয়মানুবর্তিতায় হতে পারে সংযমী, আত্মত্যাগী এবং অধ্যবসায়ী।

২নং অনুচ্ছেদ;সাধারণ ছাত্রদের জন্য আইন-কানুন

ক. প্রতিটি ছাত্র প্রতিাষ্ঠানের আদর্শ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহের অনুসারী হওয়া অপরিহার্য হবে।

খ. বিশেষত, আকাবেরে দেওবন্দের আদর্শ ও চিন্তাধারার অনুসরণ একান্ত জরুরী হবে।

গ. সুন্নাতের পাবন্দ, চুল, দাঁড়ি ও লেবাস-পোষাক শরীয়তসম্মত ও সলফে সালেহীনের অনুকরণভিত্তিক হতে হবে।

ঘ. প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় নিয়ম-কানুন সর্বাবস্থায় পুঙ্খানুপুঙ্খ মেনে চলতে হবে।

ঙ. প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকবৃন্দের সাথে সদাচরণ ও আদব রক্ষা করা অপরিহার্য হবে।

চ. কোন ছাত্র হিফজ প্রতিষ্ঠানে কোন সংগঠন করতে বা তাতে যে কোনভাবে জড়িত থাকতে পারবে না।

ছ. কোন ছাত্র অন্য ছাত্রকে তত্ত্বাবধান করতে পারবে না। কিন্তু কেউ যদি কোন ছাত্রের আইনত অভিভাবক হয় তবে তা ভিন্ন কথা।

জ. কোন ছাত্র  ‍পূর্ব অনুমোদিত ছুটি ব্যতিরেকে অনুপস্থিত থাকতে পারবে না।

ঝ. কোন ছাত্র অনুমতি ব্যতিরেখে এক ঘন্টার জন্যও হিফজ খানায় অনুপস্থিত থাকতে পারবে না।

 ঞ. কোন ছাত্র প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া জায়গীর গ্রহণ করতে পারবে না।

ট. পড়া চলাকালীন গল্প বা অন্য কাজ বা নিদ্রাগমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ঠ. পড়ার সময় বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার অনুমতি নিতে হবে।

ড. যে কোন সাথীর যে কোন জিনিস বিনা অনুমতিতে ব্যবহার মারাত্মক অপরাধে গন্য হবে।

ঢ. রেড়িও শ্রবণ, নোবেল জাতীয় ও অশ্লীল বই পুস্তক পাঠ, অথবা আকাবেরে দেওবন্দের চিন্তাধারা বিরোধী বই-পুস্তক পাঠ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়তে অশ্লীল ছবি দেখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

৩নং অনুচ্ছেদ: ছাত্রদের শাস্তি ও বহিস্কারযোগ্য অপরাধ

ক. ৫ম পরিচ্ছেদের ২ নং অনুচ্ছেদের ৬নং ছাড়া বাকী নিয়ম-কানুন বরখেলাফ  করলে কর্তৃপক্ষ যে কোন পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

খ. কোন ছাত্রকে উপরোক্ত ৬নং এ বর্ণিত নিয়ম কানুন এর বিরুদ্ধাচরণ করতে পাওয়া গেলে তাকে বহিস্কার করা যাবে।

গ. কোন ছাত্রকে উপরোল্লিখিত ৬নং ছাড়া অন্যান্য নিয়ম-কানুন এর বরখেলাফ করার কারণে  সতর্ক করার এবং শাস্তি প্রদানের পরও যদি সে বারংবার অপরাধ করছে বলে প্রমাণিত হয় তবে তাকে বহিস্কার করা যাবে।

ঘ. কোন ছাত্র মারাত্মক ঝগড়া-বিবাদ বা প্রতিাষ্ঠানের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে বা মারাত্মক চরিত্রহীনতায় দোষী প্রমাণিত হলে তাকে বহিস্কার করা হবে।

ঙ. কোন ছাত্র বিনা ছুটিতে এক নাগাদ ১৫ দিন অনুপস্থিত থাকলে তাকে বহিস্কৃত গন্য করা হবে।

৪নং অনুচ্ছেদ: হিফজ প্রতিষ্ঠান থেকে বৃত্তি পাওয়ার শর্তাবলী

ক. এমদাদী খোরাকী পাওয়ার জন্য জাকাতের উপযোগী  দরিদ্র ছাত্র হতে হবে।

খ. প্রতিটি পরীক্ষায় গড়ে শতকরা ৬০ নম্বর না পেলে এমদাদী খোরাকী পাবেনা। তবে বিশেষক্ষেত্রে পরিচালকের বিশেষ বিবেচনা করার অধিকার থাকবে।

গ. নতুন ছাত্ররা ভর্তি  পরীক্ষায় শতকরা ৬০ নম্বর পেলে এমদাদী খোরাকী পাবে। তবে প্রথম একমাসের খোরাকী নিজেকে বহন করতে হবে। এর চেয়ে কম নম্বর পেলে শিক্ষকের মন্তব্যের ভিত্তিতে পরিচালক সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন।

ঘ. প্রতি শিক্ষাবছরের শুরুতে এবং কুরবানীর বন্ধের পর প্রতি ছাত্রকে কমপক্ষে একমাসের  খোরাকী  পরিমাণ তাহছীল হিসাব দপ্তরে জমা দিতে হবে । অন্যথায় যে পরিমাণ তাহছীল কম হবে সে পরিমাণ খোরাকী নিজ দায়িত্বে থাকবে।

৫নং অনুচ্ছেদ: বন্ধ সম্পর্কীয় নিয়মাবলী

ক. প্রতিবছর ২১শে রমজান থেকে ৫ই শাওয়াল পর্যন্ত ঈদুল ফিতর উপলক্ষে হিফজখানা বন্ধ থাকবে।

খ. কুরবানী উপলক্ষে হিফজখানা ৭ই জিলহজ্ব থেকে ১৬ই জিলহজ্ব পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে পরিচালক এতে রদবদল করতে পারবেন।

গ. সাময়িক পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য তিন দিন বার্ষিক পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য ১৫ দিন বন্ধ থাকবে।

ঘ. ধান্য মৌসুমে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হিফজখানা বন্ধ দেয়া যাবে।

ঙ. বন্ধকালীন কোন শিক্ষক-কর্মচারীকে পরিচালক প্রতিষ্ঠানের বিশেষ কোন কাজের জন্য নির্দেশ করলে, তিনি তা করার জন্য বাধ্য থাকবেন। তবে তার জন্য বিশেষ এমদাদ পাবেন।

৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদ: শিক্ষা পদ্ধতি

১ নং অনুচ্ছেদ : হিফজের নেসাব বা পাঠ্যক্রম

হিফজ অর্থ পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআনুল করিমেরই কণ্ঠস্থ করা। তাই তৎসংশ্লিষ্ট সকল কার্যাদি হিফজ নেসাবের অন্তর্ভূক্ত করা যায় । যথা – নাজেরা পাঠ, তাজবীদের কাওয়ায়েদসমূহ শিখা এবং প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল চর্চা ইত্যাদি।

হিফজখানায় শিক্ষারত সাধারণত তিন ধরনের ছাত্র পাওয়া যায়। (১) নাজেরা গ্রুপ (২) হিফজ গ্রুপ (৩)সমাপনী (দাওরকারী) গ্রুপ। নেসাবের ক্ষেত্রে হিফজ এবং দাওর উভয় সমান। তাই হিফজের নেসাবে দাওরের নেসাব সন্নিবেশিত হল।

এক নজরে হিফজের নেসাব

নাজেরা গ্রুপ

১.  তাজবীদসহ ত্রিশপারা নাজেরা পাঠ।

২.  প্রয়োজনীয় মাসনূন দোয়াসমূহ মুখস্থকরণ।

৩.  তাজবীদের কায়দাসমূহ ।

৪.  ফিক্হ ও আকাইদ।

 

হিফজ ও দাওরকারী গ্রুপ

১. তাজবদিসহ ত্রিশপারা হিফজ।

২. মাসনূন দোয়া মুখস্থকরণ।

৩.  ইলমে তাজবীদ ও কেরা’তের প্রয়োজনীয় কায়দাসমূহ শিক্ষাদান।

৪.  ফিক্হ ও আকাইদ।

২ নং অনুচ্ছেদ: হিফজ করার জন্য যে মেধার প্রয়োজন

পবিত্র কুরআনকে বক্ষে ধারণ একটি সহজায়ত্ত অনায়সলব্দ কাজ নয় বিধায় হিফজ আরম্ভের প্রাক্কালে ছাত্রের সম্যক মেধা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও বিশুদ্ধ পাঠ সম্পর্কে শিক্ষকের পরীক্ষা নেয়া অতিব গুরত্ববহ। ছাত্রের ধী-শক্তি নূন্যপক্ষে দৈনন্দিন হিফজ কোরআনের এক পৃষ্ঠা মুখস্থ করতে পারে এমন হতে হবে । নচেৎ শিক্ষক নিজ অভিজ্ঞতার নিরিখে বিশেষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। প্রয়োজনে ঐ ছাত্রকে হিফজ বিভাগ থেকে অব্যহিত প্রদানপূর্বক অন্য বিভাগে ভর্তির পরামর্শও দিতে পারেন এবং তা উত্তমও বটে।

৩ নং অনুচ্ছেদ: ছাত্রদের পাঠ শোনার সময়সূচী

ক. হিফজখানা মানেই শিক্ষকের সার্বক্ষনিক ব্যস্ততা। তাই নিজের অমূল্য সময়কে সুশৃঙ্খল-সুচারু পন্থায় কাজে ব্যয় একান্ত কাম্য। ছাত্র এবং পাঠ বিশেষে সময়ের বন্ঠন অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই নিয়ে তার একটা সময়সূচি লিপিবদ্ধ হল।

  • শেষরাত্রি নিদ্রা জাগরণ থেকে ফজরের নামাজের পূর্ব অবাধি সব ছাত্রের সবক শুনে নিতে হবে। সময়ের অসংকুলান হেতু নামাযের পরেও পারা যাবে। তবে সময়ের দীর্ঘাতের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
  • অতঃপর আরম্ভ হবে সবকের পারা শুনার কাজ (সবক সংলগ্ন পূর্বের পাঁচ পৃষ্ঠা) এবং তা সকাল ৭ টার মধ্যবর্তকালীন সময়ে সমাপ্ত হতে হবে।
  • তখন থেকেই একটানা সাড়ে নয়টা পযর্ন্ত ছাত্রদের জন্য পিছনের পারা শেখার সময় এবং শিক্ষকের জন্য নাযেরা বা খতমী ছাত্রদের পাঠ শুনার সময়। অতঃপর জোহরের নামাজের পর থেকেই আরম্ভ হবে ছাত্রদের পিছনের পারা শুনানী। এক নাগাড়ে আছর পর্যন্ত তা অব্যহত থাকবে।
  • মাগরিবের পর থেকে রাকে শয়নকাল পর্যন্ত বিশেষ কোন ছাত্রের পাঠ শুনার কাজ নেই, তবে যদি কোন ছাত্রের পারা অবশিষ্ট থাকে এবং কোন পুনরাবৃত্তি (দাওর) কারী ছাত্র থাকে তবে পাঠ শুনা যায়।

৪নং অনুচ্ছেদ: ছাত্রদের পারা শোনার নিয়মাবলী

কাজ বলতেই নিয়স-নীতির অধীনে হওয়া প্রয়োজন। তাই এক্ষেত্রে কতক নিয়ম নিম্নে প্রদত্ত হল।

নাযেরা ছাত্র সবক আদায়ের ক্ষেত্রে তাদের জন্য বিশেষ কোন নিয়ম ধার্যকৃত না হলেও শিক্ষক নিজ অভিজ্ঞতাপ্রসূত যে কোন নিয়মাধীন সবকের কাজটা সম্পাদন করতে পারেন। তবে হিফজগ্রুপ এবং খতমী ছাত্রদের জন্য বিশেষ কিছু নিয়ম থাকা আবশ্যক। আবার তাদের মেধা-প্রতিভার তারতম্যতা হেতু এতে প্রভেদও করা যেতে পারে। যেমন উচ্চ মেধাসম্পন্ন ছাত্রদের জন্য পিছনের পারা হিসাবে প্রত্যেহ এক পারা এবং সাধারণ ছাত্রদের জন্য শিক্ষকের সিদ্ধান্তের উপরই তা ন্যস্ত বা নিম্নোক্ত নিয়ম অনুসরণ করা যেতে পারে।

১. প্রাথমিক পর্যায়: ১-৯ পারা পর্যন্ত কণ্ঠস্থকারী ছাত্রদের আমুকতা শুনানির পরিমাণ দৈনিক অর্ধপারা হতে হবে।

২. দ্বিতীয় পর্যায়:  ১০-১৯ পারা কণ্ঠস্থকারী ছাত্রদের আমুখতা শুনানির পরিমাণ এক পারা হতে হবে।

৩. তৃতীয় পর্যায়:  খাতমী ছাত্র। তাদের জন্য আমুখতা শুনানির পরিমাণ দৈনিক দুই পারা হতে হবে। যারা সবেমাত্র ছবক শেষ করেছে তাদের মধ্যে যারা দৈনিক দুই পারা পরিমাণ আমুখতা শুনাতে অক্ষম, তাদের অধিক কাঁচা পারাগুলি হতে প্রত্যহ সকালে আধাপারা শুনাতে হবে। কাঁচা নয় এমন পারাগুলি প্রত্যহ বিকালে এক পারা করে শুনাতে হবে। সাথে সাথে কাঁচা পারাগুলি পূর্বের ন্যায় যেন কাঁচা না হয়, তার প্রতি শিক্ষক সতর্ক থাকবেন।

 

সাপ্তাহিক শবিনার দাওরের পরিমাণ

১. প্রাথমিক স্তর:  ১-৯ পারা পর্যন্ত।

২. দ্বিতীয় স্তর: ১-৯ পারা পর্যন্ত।

৩. সমাপনী স্তর। প্রাথমিক ছাত্রদের জন্য কণ্ঠস্থকৃত সবটুকু দাওর করা। দ্বিতীয় স্তরের জন্য ১০ পারা এবং সমাপনী ছাত্রদের জন্য ১৫ পারা। এছাড়া খতমী ছাত্রদের জন্য আমুখতার শুনানীর পরিমাণ দৈনিক চার পারা।

৫ নং অনুচ্ছেদ: পরীক্ষা ও প্রতিযোগিতা

ক. ছাত্রদের প্রেরণা যোগানোর জন্য পরীক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তন করতে হবে। বার্ষিক তিনটি পরীক্ষা হবে।

  • ১ম সাময়িক পরীক্ষা
  • ২য় সাময়িক পরীক্ষা
  • বার্ষিক পরীক্ষা

খ. সংস্থাধীন হিফজ প্রতিষ্ঠান সমূহের হিফজ সমাপ্তকারী ছাত্রদের মারকাজী পরীক্ষা শাবান মাসে হবে।

গ. সংস্থাভূক্ত প্রতি হিফজ খানার জন্য মারকাজী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অপরিহার্য হবে। পরীক্ষার নিয়ম-কানুন সংস্থা কতৃক প্রদত্ত হবে।

ঘ. মারকাজী পরীক্ষা চার বিষয়ের উপর হবে।

১. হাদর ও তারতীল উভয় পদ্ধতিতে পূর্ণ কুরআন শরীফ হিফজ।

২. তাজবীদের নিয়মাবলী।

৩. মাসনূন দোয়াসমূহ।

৪. আকাঈদ ও ফিকাহের প্রয়োজনীয় মাসআলাসমূহ।

ঙ. মারকাজীসহ প্রতি পরীক্ষার বিষয়সমহের নম্বর নিম্নরূপ হবে।

১. হিফজে কুরআনে করীম:  ১০০

২. ফিকহ ও আকাঈদ : ১০০

৩. তাজবীদ:  ৫০

৪. মাসনূন দোয়া:  ৫০

পাশের জন্য প্রতি ১০০ নম্বরে ৫০ এবং প্রতি ৫০ নম্বরে ২৫ নম্বর পেতে হবে, না হয় অকৃতকার্য গণ্য হবে।

বিভাগ নির্ধারণ নিম্নরূপ হবে

১.  মুমতাজ: ৯০

২.  জাইয়িদ জিদ্দান:  ৮০

৩.  জাইয়িদ:  ৬৫

৪. মাকবুল: ৫০

চ. সংস্থার ব্যবস্থাপনাধীন বার্ষিক প্রতিযোগিতায় সংস্থাভূক্ত সকল হিফজখনাকে অংশ গ্রহণ করতে হবে। তবে শর্তাধীনে না হলে লিখিতভাবে গ্রহণযোগ্য ওজর পেশ করতে হবে।

ছ. বৎসরে ৩টি পরীক্ষা ছাড়া ও ছাত্রদের হিফজে উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি করার জন্য হিফজ খানায় বার্ষিক কমপক্ষে ২টি প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

৬ নং অনুচ্ছেদ: শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষকের দায়িত্ব

স্বল্পসময়ে হিফজ করা যদি ও ছাত্রের মেধার উপরই নির্ভর। তথাপি নিম্নোক্ত ব্যবস্থা অবলম্বনে এতে অনেকটা সহজতা আসবে।

১. ছবক নির্ভুল শুনা। ২. সাত ছবক দৈনিক সবটুকু নিয়মিত শুনা। ৩. দৈনিক নির্ধারিত পরিমাণে আমুখতা শুনা। ৪. রীতিমত উপস্থিত থাকা। ৫. ছবক আমুখতার ফাঁকি দিতে না পারে সেদিকে  লক্ষ্য  রাখা। ৬. উৎসাহ ও উদ্দীপনা প্রদানপূর্বক ছাত্রদের মধ্যে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা। ৭.ছাত্রদেরকে পুষ্টিকর খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা। ৮.বাইরের পরিবেশের পরশ একেবারেই না পেতে দিয়া। ৯.ছাত্রভর্তির শর্ত মোতাবেক ছাত্র ভর্তি করা। ১০. ছাত্রধিক্য হেতু দৈনিক  আমুখতা শুনার জন্য খাতা প্রথা জারি করা। ১১. সময়ের গুরুত্বের প্রতি লালায়িত করে তোলা। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা যে, প্রতিষ্ঠানের ছুটির সময় ছাড়া সাপ্তাহিক ছুটির সুযোগ ভোগীদেরই হিফজ করতে অধিক সময়ের প্রয়োজন হয়। অতএব বিশেষ প্রয়োজনে অভিভাবকের আবেদন ছাড়া একেবারেই ছুটি না দেয়া। ১২. সাপ্তহিক শবিনা উস্তাদগণের তদারকির মাধ্যমে কঠোরভাবে নির্ধারিত পরিমাণ আমুখতা দাওর করাতে হবে। খাতমী ছাত্রদেরকে দৈনন্দিন তিলাওয়াতের জন্য পরিমাণ সুবিন্যস্ত করে দিতে হবে। অর্থাৎ, দৈনিক নির্ধারিত আমুখতা শুনানীর পরও কমপক্ষে অন্য যে কোন পাঁচ পারা তিলাওয়াত করতে হবে। উস্তাদগণ ঐ পাঁচ পারা তিলাওয়াত করছে কি না বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে যাচাই করে দেখবেন।

৭ম পরিচ্ছেদ

১নং অনুচ্ছেদ: হিসাব-নিকাশ নিরীক্ষণ

ক. প্রতিষ্ঠানের যে কোন আয় রসিদের মাধ্যমে এবং যে কোন ব্যয় ভাউচারের মাধ্যমে হওয়া অপরিহার্য।

খ. প্রতিষ্ঠানের চা৭দা ও ছদকা তহবিলের আয়-ব্যয় সম্পূর্ণ পৃথক রাখতে হবে। এবং দাতা যে অর্থ যে উদ্দেশ্যে দান করবে কেবল সেই খাতে ব্যয় করা হবে।

গ. চাঁদাফান্ডে এককালীন দান, মাসিক ও বার্ষিক চাঁদা, মওসুমী ফসলের ছদকা প্রভৃত অর্থ জমা হবে। ছদকা ফন্ডে যাকাত, কুরবানীর চামড়ার টাকা, বিভিন্নরূপ ওয়াজিব ছদকা ও ফিতরা প্রভৃতি জমা হবে।

ঘ. নির্দিষ্ট মুহাসিব যাবতীয় হিসাব সংরক্ষণ করবেন। পরিচালকের হাতে টাকা জমা থাকবে না। তিনি নিজ হাতে হিসাব ও রাখবেন না।

ঙ. শুরা বা আমেলা কতৃক নির্ধারিত পরিমাণ নৈমিক্তিক খরচের টাকা মোহাসেবের হাতে জমা থাকবে। বাকী টাকা ব্যাংকে জমা করা হবে।

৬. শোরা বা আমেলা কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তিই ব্যাংক হিসাবের পরিচালক থাকবেন। তবে পরিচালক অবশ্যই অন্যতম পরিচালক থাকবেন।

৭.  চাঁদাফান্ডের অর্থ দ্বারা শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন, নির্মান কাজ, জমি খরিদ, কিতাব খরিদ, মসজিদ নির্মাণ ও প্রতিষ্ঠানের সাধারণ ব্যয় নির্বাহকরা হবে। তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সর্বাবস্থায় অগ্রধিকার থাকবে।

৮. ছদকাফান্ডের অর্থ দ্বারা একমাত্র দরিদ্র ছাত্রদের খোরাপোষ প্রভৃতির ব্যকস্থা করা হবে অন্য কোন ব্যয় এ অর্থ দ্বারা নির্বাহ করা হবে না।

২ নং অনুচ্ছেদ: হিসাব অডিট সংক্রান্ত

ক. শোরা বা আমেলা কর্তৃক মনোনীত অডিটরগণ মাসিক ও বার্ষিক অডিট করবেন। এটা প্রতি প্রতিষ্ঠানের জন্য অপরিহার্য। অডিটের পর যাবতীয় হিসাব শোরায় অনুমোদন নিতে হবে।

খ. পরবর্তীতে চটার্ড একাউন্টেন্ড দ্বারা অডিট করানো উত্তম হবে।

গ. সংস্থা কর্তৃক নিযুক্ত পরিদর্শক হিসাবের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন।

৩ নং অনুচ্ছেদ: সংস্থাভূক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিদর্শন সংক্রান্ত

ক. প্রতি প্রতিষ্ঠানের জন্য বার্ষিক একবার সংস্থার পরিদর্শক দ্বারা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করানো জরুরী। কেবল এ পরিদশনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানকে সংস্থার পক্ষ থেকে সুপারিশ বা সত্যায়ন পত্র প্রভৃতি প্রদান করা হবে।

খ. পরিদর্শনের যাতায়ত খরচ প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে।

৪নং অনুচ্ছেদ: তলবী অধিবেশন

ক. যদি কোন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক যথারীতি প্রতিষ্ঠানের শোরা অধিবেশন আহবান না করেন এবং সংস্থা কতৃপক্ষ শোরা আহবানের নির্দেশ দেয়া সত্ত্বেও পরিচালক ভ্রুক্ষেপ না করেন, তবে সংস্থার সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক তলবী সভা আহবান করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

খ. তলবী সভা এক সাপ্তাহের নোটিশে আহবান করা যাবে।

৫ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধান সংশোধন ও সংযোজন

অত্র সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের সংশোধন বা তাতে সংযোজনের প্রয়োজন দেখা দিলে সংস্থার শোরা অধিবেশনে অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতে তা করা যাবে।

সমাপ্ত

শুরা অধিবেশনের ঘোষণা

অদ্য ০৪/০৭/১৪২৪ হি: মোতাবেক ০১/০৯/২০০৩ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ তাহফীজুল কুরআন সংস্থা’র শুরা অধিবেশন অত্র বাংলাদেশ হিফজ প্রতিষ্ঠান সংবিধান ও এর সকল পরিচ্ছেদ-অনুচ্ছেদের শুনানীর পর তা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত বলে ঘোষণা করা হলো। সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কে যথাশীঘ্র এরমুদ্রণ ও প্রচারের জন্য আহবান জানানো হলো।

অধিবেশনের সভাপতির স্বাক্ষর

(আল্লামা মুহাম্মদ হারুন ইসলামাবাদী)

 

তাহফিজুল কোরআন সংস্থার সংবিধান-এটি PDF ডাউনলোড করতে নিচের ডাউনলোড লেখায় ক্লিক করুন-

ডাউনলোড